গিজগিজ করছে মাইক্রোপ্ল্যাস্টিক, দিঘা-পুরীর সি বিচে ওঁত পেতে রয়েছে বিপদ?

বাঙালির বেড়ানোর তালিকায় সবার উপরে থাকা দিঘা আর পুরী আজ মারাত্মক বিপদের মুখে। এক সময়ের পরিচ্ছন্ন সৈকতগুলো এখন প্লাস্টিকের আবর্জনায় ভরে গেছে। কেন্দ্রীয় সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ বোর্ডের এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দিঘা এবং পুরীর সমুদ্রের জলে ও বালিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

প্রতি লিটার জলে ৫.৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক!

গবেষণা বলছে, দিঘার প্রতি লিটার সমুদ্রের জলে ৫.৩টি এবং পুরীর জলে ৬.৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আর বালির কথা যদি বলি, তাহলে সেখানে এই সংখ্যা আরও ভয়াবহ। দিঘায় প্রতি কেজি বালিতে ১৭৩.৪টি এবং পুরীতে ১৯০.৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে! এই পরিসংখ্যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আমাদের প্রিয় এই দুটি সৈকত প্লাস্টিক দূষণের কবলে পড়েছে।

কেন এত বিপদ?

মাইক্রোপ্লাস্টিক হল খুব ছোট ছোট প্লাস্টিকের কণা যা সহজে চোখে পড়ে না। এই কণাগুলি সামুদ্রিক প্রাণীদের শরীরে প্রবেশ করে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারে। এছাড়া, মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাধ্যমে অন্যান্য ক্ষতিকারক রাসায়নিকও আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

কীভাবে এত প্লাস্টিক?

প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট, সিগারেটের বাট, সিন্থেটিক কাপড়, টায়ারের কণা ইত্যাদি সমুদ্রে পড়ে ভেঙে চূর্ণ হয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়। এই প্লাস্টিকগুলি নদী, খালের মাধ্যমে সমুদ্রে পৌঁছে।

কী হবে এই অবস্থায়?

সামুদ্রিক জীবন ধ্বংস: মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে মাছ, কচ্ছপ, পাখি সহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক জীব বিলুপ্তির মুখে।

পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত: প্লাস্টিক দূষণের কারণে পর্যটকরা আর দিঘা-পুরীতে আসতে চাইবে না।

মানুষের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব: মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে ক্যান্সার সহ নানা রোগের কারণ হতে পারে।

এবার আমাদের করণীয়

প্লাস্টিকের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমানো।প্লাস্টিক পদার্থ পুনর্ব্যবহার করতে হবে। মানুষকে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা।সরকারকে কঠোর আইন করে প্লাস্টিক দূষণ রোধ করতে হবে।আমাদের সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় দিঘা-পুরীকে আবার পূর্বের মতো সুন্দর করে তুলতে হবে।