বেআইনি টাকায় ৬% রেটে ‘ব্যাঙ্কিং পরিষেবা’ বালুর, আদালতে দাবি করলো ED

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রেশন দুর্নীতির টাকা দিয়ে সুদের ব্যবসা করেছেন। রেশন কেলেঙ্কারির টাকা আত্মসাৎ করে তিনি তার পরিচিতদের কাছে ঋণ দিয়েছেন এবং ব্যাংকের মতো সুদ আদায় করেছেন। ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, কয়লা, গরু, শিক্ষা নিয়োগের মতো অন্যান্য দুর্নীতিতে জড়িতদের মধ্যে এমন সরাসরি সুদের ব্যবসা করার ঘটনা দেখা যায়নি।
অর্থাৎ, রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় একদম আলাদা ধরনের অপরাধী। তিনি তার মেয়েকে লেখা চিঠিতে এই সুদের ব্যবসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি তার পরিচিতদের নাম উল্লেখ করে লিখেছেন যে, তারা এই টাকা দিয়ে সুদ দেবে।
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ব্যাঙ্কের মতো ৬ শতাংশ রেটে এই সুদ সংগ্রহ করা হতো।
এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক একটি চিঠি লিখে দিয়েছিলেন মেয়ে প্রিয়দর্শিনীকে। তাতে মুকুলের (আলিফ নূর) নাম লেখা ছিল। ওই চিঠিতে বালু লিখেছিলেন, ‘কাউকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে, অথবা টাকার দরকার পড়লে… মুকুল, শাহজাহান এবং ডাকু সেই টাকা দেবে।
মাসে ১০ লাখ করে সুদের টাকা দেবে মুকুল। মূল টাকা ওর কাছেই আছে। তা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’ পরবর্তী ক্ষেত্রে ওই চিঠির সূত্রেই জানা যায়, রেশন দুর্নীতির ২০ কোটি টাকার ভাগ বালুকে না দিয়ে ব্যবসার প্রয়োজনে আনিসুর রহমান (বিদেশ) এবং আলিফ নূর (মুকুল) নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিলেন।
ইডি-র তদন্তে আরও জানা গেছে, জ্যোতিপ্রিয় এবং তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে এই কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। এই কোম্পানিগুলিকে ব্যবহার করে রেশন কেলেঙ্কারির টাকা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সহজ কথায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রেশন কেলেঙ্কারির টাকা দিয়ে একদিকে সুদের ব্যবসা করেছেন, আবার অন্যদিকে সেই টাকা লুকিয়ে রাখার জন্য কালো টাকা সাদা করেছেন। এই দুই কাজ একসাথে করে তিনি নিজেকে আইনের চোখে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।