সালমান খানকে হত্যাচেষ্টা: যেভাবে শুটারদের গাইড করেন কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্সের ভাই

বলিউডের তারকা অভিনেতা সালমান খানকে দীর্ঘদিন ধরে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছেন ভারতের গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। সম্প্রতি সেই গ্যাংস্টারের ভাই আনমোল বিষ্ণোইর একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছে তদন্ত কমিটি। ভিডিওতে দেখা গেছে, সালমানের হত্যাকারীদের গাইড করছেন আনমোল।
জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল সালমান খানের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের আক্রমণের ঘটনায় দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার হন। তাদের একজন জেলে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের করা চার্জশিটে সম্প্রতি উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রকাশ্যে আনা হয়েছে একটি ভিডিও। ঐ ভিডিওতে দেখা গেছে, সালমান খানের বাড়িতে ১৪ এপ্রিল হত্যা চেষ্টাকারীদের গুলি চালানোর আগে আনমোল বিষ্ণোই শুটারদের গাইড করছেন।

আনমোল বলছেন, গুলি চালানোর সময় হেলমেট পরবেন না। বেশি করে ধূমপান করুন। সিগারেট খান বারবার। আপনার চোখে-মুখে ভয় দেখাবেন না। আপনারা ঠিক ইতিহাস তৈরি করবেন।

ভিডিওতে আনমোল আরো বলেন, কীভাবে সবটা করবেন সে কথা ভাবুন। সর্বত্র গুলি চালানো উচিত। আগুন লাগাতে এক মিনিট বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। সমস্যা নেই। কিন্তু গুলি চালানোটা এমন হওয়া উচিত যাতে সালমান খানের হৃদয়ে ভয় ঢুকে যায়।

এ বিষয়ে সালমান খান পুলিশের কাছে বলেন, বিষ্ণোই গ্যাং শুধু আমাকে নয়, আমার পরিবারকেও টার্গেট করেছে হত্যার জন্য। তাই লাগাতার আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আর এ কারণেই আমার বাড়িতে গুলি চালিয়েছে তারা।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে সালমানের নাম। এরপর থেকেই ‘বদলা নিতে’ সালমানকে লাগাতার খুনের হুমকি দিয়ে চলেছে লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠী।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলবন্দি গ্যাংস্টার বিষ্ণোই হত্যার যে ১০ জনের তালিকা করেছেন তার সবার প্রথমে রয়েছে সালমান খানের নাম। আর তাই কয়েক মাসের ব্যবধানেই অভিনেতাকে হত্যার আগে ভয় দেখানোর কাজটি চালু রেখেছে দুর্বৃত্তরা।

১৪ এপ্রিলের হামলার পর গ্যাংস্টার লরেন্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায় স্বীকার করেন। এ প্রসঙ্গে লরেন্সের ভাই আনমোল ফেসবুক পোস্ট করে আবারও হত্যার হুমকি দেন সালমানকে।

ঐ পোস্টে আনমোল লেখেন, আমাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের নিষ্পত্তি চাই। যদি তুমি সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে নামতে চাও, তাই সই। আজ যা হয়েছে, তা শুধুই একটা ঝলক ছিল সালমান খান। যাতে তুমি বুঝতে পারো, আমরা কত দূর যেতে পারি। এটাই ছিল তোমাকে দেওয়া শেষ সুযোগ।

তিনি আরো লেখেন, এরপর গুলিটা তোমার বাড়ির বাইরে চলবে না। দাউদ ও ছোটা শাকিল নামের যে দু’জনকে তুমি ভগবান মানো, সেই নামে দুটি কুকুর পুষেছি বাড়িতে। বাকি বেশি কথা বলার লোক আমি নই। জয় শ্রীরাম।