অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, ভেঙে ফেলা হলো মোবাইল -মন্দির চত্বরে ‘দাদাগিরি’ চেয়ারম্যানের

ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)-এর সংরক্ষিত এলাকায় দলবল নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্তর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় টেরাকোটা মন্দির চত্বরে ই-রিকশা ঢোকানো, নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর ও প্রাণে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এএসআইয়ের কালনা সাব সার্কলের সিনিয়র কনজ়ার্ভেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট অমিত মালো মঙ্গলবারের ঘটনার পরে মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার তিনি গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের জন্য রিপোর্ট পাঠিয়েছেন এএসআইয়ের কলকাতা সার্কলের সুপারিন্টেন্ডিং আর্কিয়োলজিওস্টের কাছে।

ওই রিপোর্টে তিনি রাজবাড়ি চত্বরে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৪ জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের আর্জি জানিয়েছেন।

অভিযোগ, উল্টোরথে রথ কমিটি ২৫ চূড়ার লালজি মন্দিরে ভোগের ব্যবস্থা করে। চেয়ারম্যানও রয়েছেন ওই কমিটিতে। ভোগ খেতে আসা মানুষদের জন্য ই-রিকশায় জলভর্তি জার ঢোকাতে গিয়েছিলেন চেয়ারমান। তার থেকেই গোল##

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেননি চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত। বাড়িতে গিয়েও দেখা মেলেনি তাঁর।

যোগাযোগ করা হয় জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি কী হয়েছে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব। খারাপ আচরণ তো কারও সঙ্গে করা যায় না। যদি করে থাকেন নিঃসন্দেহে খারাপ করেছেন।’

বর্ধমান রাজাদের উদ্যোগে কালনায় তৈরি হয়েছিল বেশ কয়েকটি টেরাকোটা মন্দির। তার একটি মন্দির দেশের সেরা ৭টি মন্দিরের একটি হিসেবে স্বীকৃত। এএসআইয়ের অধীনে থাকা সেই মন্দির চত্বরে ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়, যা পুরাতাত্ত্বিক আইনে নিষিদ্ধ।

এএসআইয়ের সিনিয়র কনজ়ার্ভেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট অমিত মালো বলেন, ‘এএমএএসআর রুলের ৮সি ও ৮জি২ ক্লজ অনুযায়ী মনুমেন্টের মেন্টেন্যান্সের কাজে যুক্ত গাড়ি একমাত্র ভিতরে ঢুকতে পারে। সংরক্ষিত এলাকায় রান্না করা যায় না। অনুমোদিত নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া খাওয়াও যায় না।’

তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ম্যানুয়ালি জল নিয়ে যেতে। বলা হয়েছিল, প্রয়োজনে আমাদের কর্মীরাও দিয়ে আসবে। কিন্তু চেয়ারম্যান ও তাঁর সঙ্গীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে গায়ের জোরে ই-রিকশা ঢুকিয়ে নেন। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিতে গেলে মারধর করা হয়। চিৎকার করে আমাকে ও কর্মীদের বলেন, বাইরে বেরলে খুন করে ফেলবেন। বলেন, আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়াবেন যাতে আমি সাসপেন্ড হয়ে চাকরি হারাই।’

আধিকারিকের আরও অভিযোগ, ‘কর্মীরা ভিডিয়ো করলে তা মুছতে বাধ্য করা হয়। ভেঙেও দেওয়া হয় একটি মোবাইল।’