আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার বার্তা দিয়েও,শাস্তির হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী হাসিনার

কোটা সংস্কার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে।
এতজন নিহতের পরেও কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানে কোন পরিবর্তন আসেনি। তবে, আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় সরকার ও শাসকদল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান জানিয়েছেন, এই আন্দোলনে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারের উপর দাবি পূরণের জন্য চাপ বাড়ছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে কোনও দাবির প্রতি শেখ হাসিনার সরকার সহনশীল। তরুণ প্রজন্ম সংঘর্ষে লিপ্ত হবে, এটা কাম্য নয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আঘাত করলে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করলে, জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করলে সরকারকে কঠোর হতেই হয়।’
সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে আমরাও একটা আপিল করেছি। আদালত শুনানির দিন ধার্য করেছে। পড়ুয়ারাও যাতে সেখানে গিয়ে তাদের মত জানাতে পারে সেই সুযোগও আছে। তাই এই নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সুপ্রিম কোর্টে ন্যায় এবং উপযুক্ত বিচার করবে। আমরাও সবাই আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। আন্দোলনকারী এবং পড়ুয়াদেরও উচিত ধৈর্য ধরে আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা।’
তিনি বলেন,’ কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢুকে যারা হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও নাশকতা চালিয়েছে তাদের শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। হত্যাকাণ্ডসহ যে সব অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, সুষ্ঠু বিচারের ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সে সব বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। যারা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে পারে সরকার। তবে, সরকার কোটা সংস্কারের ব্যাপারে কতটা নমনীয়তা দেখাবে তা এখনও অস্পষ্ট।