চোপড়ার পর সোনারপুর, সালিশি সভায় মহিলার পায়ে শিকল বেঁধে মারধর, ধৃত ২ অভিযুক্ত

চোপড়ার ঘটনার জ্বালা এখনও মনে, তারই মধ্যে নতুন করে সামনে এলো সোনারপুরের ঘটনা!
পারিবারিক বিবাদের নিষ্পত্তির জন্য সালিশি সভায় ডেকে মহিলার উপর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সোনারপুরের এক মহিলাকে শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর ও গালিগালাজ করা হয়েছে।
জামালউদ্দিন সর্দার নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সালিশি সভা বসানোর অভিযোগ উঠেছে।পারিবারিক সমস্যা মেটানোর জন্য জামাল মহিলাকে তার বাড়িতে ডেকে পাঠায়।সেখানে গিয়ে মহিলার হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।সালিশি সভায় প্রশ্ন করার আগেই মহিলাকে লাঠি-বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
মহিলার স্বামী জামালকে থামানোর চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়।এই ঘটনায় মজিদ ও অরো সর্দার নামে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ:
জামালউদ্দিন সর্দার এলাকায় ‘ত্রাতা’-র ভূমিকায় নিজেকে চালিয়ে যেত বলে অভিযোগ।জমিজমা কেনাবেচা বা দাম্পত্য কলহ, সব ক্ষেত্রেই তার নিদান মানতে হত।অনেকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং লাগাচ্ছেন।
বিজেপির অভিযোগ:
বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছেন।তিনি জামাল সর্দারের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাদের ‘আশীর্বাদ’-এর অভিযোগ করেছেন।
তৃণমূলের বক্তব্য:
স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্র জানিয়েছেন, জামাল সর্দার তৃণমূলের কেউ নন।তার সাথে তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক নেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা:
রাজ্যের নতুন ডিজিপি রাজীব কুমার বলেছেন, “কেউ আইন নিজের হাতে নিলে বরদাস্ত করা হবে না।”চোপড়ার ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে এবং মূল অভিযুক্ত জেসিবিকে গ্রেফতার করেছে।
উল্লেখ্য:
এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সচেতন মহল।