৬৮ বছর পর ফের পৃথিবীতে উঁকি সেই ধূমকেতুর, জেনেনিন দিনক্ষণ

1956 সালের জানুয়ারী। এখনও মহাকাশে উড়ে যায়নি প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-1। তখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। ফুটবল বিশ্বে পেলে-ম্যাজিক দেখেনি। ব্রাজিলও একবারও বিশ্বকাপ জিতেছে না।
সেই সময়ই, 68 বছর আগে, শেষ বার পৃথিবীর কাছাকাছি এসেছিল ধূমকেতু 13P/Olbers। তারপর থেকে মহাকাশের অজানা কোন প্রান্তে গা ঢাকা দিয়েছিল।
এবার, 68 বছর পর, 2024 সালের জুলাই মাসে ফিরে এসেছে সে।
ইউএস মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র নাসার ‘জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি’-র জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আগামী 20 জুলাই পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে ধূমকেতুটি।
মেঘলা আকাশ যদি বাধা না হয়, তাহলে সাধারণ মানের যেকোনো বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপেই সামনের কয়েকদিন ধূমকেতুটিকে দেখা যাবে বলে জানাচ্ছেন এমপি বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের বিজ্ঞান আধিকারিক বিপাশ দাশগুপ্ত।
তিনি আরও বলেন, “উত্তর-পশ্চিম আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল এবং লিও মাইনর বা উপর দিকের সিংহ রাশির মাঝামাঝি জায়গায় এই ধূমকেতুর দেখা মিলবে। এটি মোটামুটি 68-69 বছর বাদে পৃথিবীর কাছে আসে। 2024-এর জুলাইয়ের পর 2094 সালের মার্চে 13P/Olbers ফের পৃথিবীর কাছে আসবে।”
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আরও জানাচ্ছেন, হ্যালির ধূমকেতুর মতোই নির্দিষ্ট সময় অন্তর পৃথিবীর কাছে ফেরে বলে এ ধরনের ধূমকেতুকে ‘পিরিয়ডিক কমেট’ বলা হয়। ঘণ্টায় 1 লক্ষ 34 হাজার 867 কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে এই ধূমকেতু।
2024 সালে 13P/Olbers-কে দেখার জন্য অন্তত একটা বাইনোকুলার প্রয়োজন ঠিকই। কিন্তু 1815 সালের 6 মার্চ যখন প্রথম এই ধূমকেতুর খোঁজ মেলে, তখন খালি চোখেই এর অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল। জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী হাইনরিশ ওলবার্স প্রথম এই ধূমকেতুকে চিহ্নিত করেন। তাঁর নামেই এর নামকরণ। 1815 সালেরই 31 মার্চ অন্য এক জার্মান গণিতবিদ কার্ল গাউস এই ধূমকেতুর গতিপথ নির্ণয় করেছিলেন।