স্কুলে ‘ক্যান্ডি ক্র্যাশ’ খেলায় ব্যস্ত শিক্ষক, হারাতে হলো চাকরি

গেম খেলায় অতিরিক্ত আসক্তিই কাল হলো। মোবাইলের জনপ্রিয় ভিডিও গেম ক্যান্ডি ক্র্যাশই চাকরি খেলো ভারতের উত্তর প্রদেশের এক শিক্ষকের।
ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্কুলে পড়াতে এসেও মোবাইল নিয়ে বসে থাকতেন। শিক্ষার্থীদের পড়ানোসহ অন্যান্য কর্তব্য ঠিকমতো পালন করতেন না। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ওই শিক্ষককে ছাঁটাই করে রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে স্কুল ইন্সপেক্টর ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাজেন্দ্র পানসিয়ার। ওই স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খাতা দেখে চমকে যান রাজেন্দ্র। ছয় জন ছাত্রের ছয় পাতা লেখায় ৯৫টি ভুল পান তিনি। এরপরেই মূলত শিক্ষক প্রিয়ম গোয়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তিনি কী করেছিলেন প্রিয়ম গোয়েল? শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজের খাতা দেখে দেননি কেন- প্রশ্ন তোলেন জেলা প্রশাসক। এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি প্রিয়ম। একপর্যায়ে তার মোবাইলফোন খতিয়ে দেখে চমকে যান ডিসি রাজেন্দ্র।
অভিযুক্ত প্রিয়মের মোবাইলফোনের উপাত্ত বলে দেয়, স্কুলে কমপক্ষে যে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় দেওয়া উচিত, তার মধ্যে দুই ঘণ্টা ‘ক্যান্ডি ক্রাশ’ খেলে কাটিয়েছেন তিনি। ২৬ মিনিট কথা বলেছেন ও ৩০ মিনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটিয়েছেন। এসব দেখে প্রচণ্ড রেগে যান ডিসি। তিনি বিষয়টি রাজ্যের শিক্ষা বিভাগকে জানান ও শিক্ষা বিভাগ ওই সহকারী শিক্ষককে বরখাস্ত করে।
ডিসি রাজেন্দ্র পানসিয়া বলেন, শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের ক্লাসের ও বাড়ির কাজ মনোযোগ দিয়ে দেখে দেওয়া। ছেলে-মেয়েরা যাতে উন্নত শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করা। মোবাইলফোন ব্যবহার করাও বড় কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু স্কুল চলাকালীন ব্যক্তিগত কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করা কোনোভাবেই একজন শিক্ষকের থেকে কাম্য নয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে