দখল জমিতে জয়ন্তের প্রাসাদ, ছিল না বাড়ি বানানোর অনুমতি

আড়িয়াদহ মৌসুমী মোড় লাগোয়া প্রতাপ রুদ্র লেনের কয়েক কাঠা জমি বছর খানেক আগেও ফাঁকা পড়ে ছিল। বিকেল হলেই পাড়ার বাচ্চারা পুকুরের পাড়ে খেলতে জড়ো হতো। কে জমির প্রকৃত মালিক, তা এলাকাবাসী জানতেন না। তাই স্থানীয়রা দাবি করেছিলেন, ফাঁকা জায়গাটি বাচ্চাদের খেলার জন্য রেখে বাকি অংশে পার্ক করা হোক।
জায়ান্টের দখল, অবৈধ নির্মাণ, রহস্যময় অর্থের উৎস!
কিন্তু, জমিটি নজরে পড়ে দুধ ব্যবসায়ী থেকে প্রোমোটার হয়ে ওঠা জায়ান্টের। দ্রুত জমি দখল করে সেখানে এক বছরের মধ্যেই অট্টালিকা গড়ে তুলেছিলেন তিনি। নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার সময় বাসিন্দাদের কয়েকজন প্রথম দিকে আপত্তি করলেও, জায়ান্ট বাহিনীর দাপটে পরে তাঁরাও চুপ করে যান। বিনা বাধায় এক বছরের মধ্যে মাথা তোলে তিনতলা বিশাল বাড়িটি।
জায়ান্টের পরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকতেও শুরু করে দেন। কিন্তু, কামারহাটি পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ির কোনও অনুমতি পুরসভা দেয়নি। পুরসভার নথিতেও ওই জমির কোনও রেকর্ড নেই। শুধু জমি দখল করে বাড়ি তৈরিই নয়, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মার্বেলে মোড়া ওই অট্টালিকা তৈরির পিছনে অর্থের জোগান নিয়েও।
অভিযোগ: বাহুবলী জায়ান্টের অনৈতিক কার্যকলাপ!
অভিযোগ, বাহুবলী হওয়ার সুবাদে অন্য প্রোমোটারদের প্রোজেক্টের ইমারতি দ্রব্য নিখরচায় নজরানা পেয়ে যেত জয়ন্ত। অন্য প্রোমাটারদের ধমকে তাদের প্রোজেক্টে কাজ করা মিস্ত্রিদেরও তার বাড়ির কাজ করাতে বাধ্য করা হতো।
স্থানীয়দের অসন্তোষ, প্রশাসনের তদন্ত!
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তারা দাবি করছেন, জায়ান্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কামারহাটি পুরসভা কর্তৃপক্ষও জায়ান্টের অট্টালিকা নির্মাণের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
তৃণমূলেরই পুরপ্রধান গোপাল সাহা এ দিন বলেন, ‘কোনও বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। পুরসভার নথি অনুযায়ী ওই বাড়িটি সম্পূর্ণ অবৈধ। পুরসভা নোটিস পাঠাচ্ছে। উত্তর না পেলে আইনানুগ যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেওয়া হবে।’