বিশেষ: জিন্সের পকেটের উপর কেন থাকে ছোট ছোট বোতাম জানেন কী? জেনেনিন সেই কারণ

জিন্স পরতে ভালোবাসেন অনেকেই। আর জিন্স এমন একটি আউটফিট, যে কোনো লুকেই তা ফিট হয়ে যায়। আপনি অফিসেও যেমন এই জিন্স পরে যেতে পারেন, আবার কলেজ পড়ুয়ারাও জিন্স পরতেই পারেন। কোথাও ঘুরতে গেলেও বেশ মানানসই হয়ে উঠতে পারে এই আউটফিটটি।
ক্যাজুয়াল হলেও যে কোনো মুডেই বেশ ফিট করে যায়। জিন্স পরলে দেখতেও লাগে বেশ ভালো। নতুন প্রজন্মের প্রায় সবাই জিন্স পরতে ভালোবাসেন। কিন্তু এই জিন্সের ডিজাইনের পিছনে যে কত ছোট ছোট ডিটেলিং আছে, তা সবাই খতিয়ে দেখেন না।

যেমন অনেকেই লক্ষ্য করেন না যে, জিন্সে ডানদিকে পকেটের উপরে আরো একটি পকেট দেওয়া হয়ে থাকে। আবার এটিও অনেকে দেখেন না যে, সেই পকেটের উপরে ছোট ছোট মেটাল বোতামও যোগ করা হয়ে থাকে। কেন তা করা হয়? সেই প্রশ্ন কী কখনো মনে এসেছে? এর পিছনে রয়েছে লম্বা ইতিহাস।

জিন্সে দুইপাশে দুইটা পকেট তো দেওয়াই হয়। এছাড়া ব্যাক সাইডেও কখনো কখনো একটি পকেট এবং কখনো দুইটা পকেট যোগ করা হয়ে থাকে। কিন্তু জিন্সের সামনের দিকে ডানদিকের পকেটের উপরে আরো একটি পকেট দেওয়া হয়, তা কী আপনি কখনো লক্ষ্য করেছেন?

জিন্সের বড় পকেটের উপরে ছোট যে পকেটটি দেওয়া হয়, তার হয়তো এখন সেরকম কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু এর প্রাসঙ্গিকতা ছিল এক সময়। একে বলা হয় ওয়াচ পকেট। ছোট ঘড়ি রাখা হত এই পকেটে।

ছেলেদের জিন্স মেয়েদের থেকে আলাদা?
ছেলেদের জিন্সেও যেমন পকেট দেওয়া হয়, আবার মেয়েদের জিন্সেও কিন্তু পকেট থাকে। তা নিশ্চয়ই আপনি খেয়াল করেছেন। কিন্তু ছেলেদের এবং মেয়েদের জিন্সের পকেটের মাপ এক হয় না।

মেয়েদের জিন্সের পকেট কিন্তু ছেলেদের জিন্সের পকেটের থেকে অনেকটাই ছোট হয়। ছেলেদের জিন্সের পকেটে মোবাইল রাখা গেলেও অনেক সময়ে নারীদের জিন্সের পকেটে মোবাইলটি সম্পূর্ণ ঢোকেও না। এই পার্থক্য খেয়াল করতে পারেন আপনিও।

এই পকেটের উপরেই থাকে ধাতব বোতাম
আপনি যদি খেয়াল করে থাকেন, তবে দেখতে পাবেন, জিন্সের সামনের পকেটগুলোর উপরে ছোট ছোট বোতাম যোগ করা হয়ে থাকে। এই বোতামগুলো ঠিক বোতামের কাজ করে না ঠিকই, অন্তত কোনো প্রয়োজন ছাড়াই যোগ করা হয়ে থাকে। এমনকী ছোট ওয়াচ পকেটটির উপরেও এই বোতাম থাকে। অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, কেন এই বোতাম দেওয়া হয়ে থাকে?

এই বোতামগুলোর কী বিশেষ কোনো নাম আছে?
এই মেটাল স্টাডকে বলা হয় ‘রিভাট’। লিভাইসের জিন্সে এই ধরনের মেটাল স্টাড দেখতে পাবেন আপনি। আবার অন্যান্য় ব্র্যান্ডও তাদের জিন্সে এই মেটাল স্টাড যোগ করে থাকে। লিভাইসের জিন্সেই প্রথম এই ধরনর মেটাল স্টাড দেখা যায়।

তাদের জিন্সে এরকম স্টাড দেওয়া হয়ে থাকে সব সময়। তবে অনেক ব্র্যান্ডের জিন্সেই এই ধরনের মেটাল স্টাডের ব্যবহার আস্তে আস্তে কমে আসছে। অনেক ফ্যাশন এক্সপার্টের মতে, এই স্টাডের ব্যবহার একসময় বন্ধও হয়ে যেতে পারে। কারণ, এখন স্টাইলিং ছাড়া আর কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই বোতামের।

কেন এই দেওয়া হয় রিভাট, ইতিহাস কী?
প্রায় ১৫০ বছর ধরে ফ্যাশন দুনিয়ায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই জিন্স। সত্যি বলতে প্রায় সবারই একটি হলেও ডেনিম প্যান্ট অবশ্যই আছে।

জিন্স যাতে সহজেই ছিঁড়ে না যায়, সেই জন্য বিশেষ বিশেষ স্থানে এই ধাতব স্টাড ব্যবহার করা হতো। আসলে একটি ওয়াশার বা ডিস্ককে প্রেসিং কিংবা হ্যামারিংয়ের মাধ্যমে জিন্সে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। সেই সময়ে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা জিন্স পরে যেতেন, তাদের প্যান্টের কোনো কোনো জায়গা তাড়াতাড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত।

তাই তাদের জিন্স যাতে তাড়াতাড়ি ছিঁড়ে না যায়। সেজন্যই ছিল এই ব্যবস্থা। ওয়ার্কওয়্যার ট্রাউজারকেই রিভাটিং করা হতো। জ্যাকব ডেভিস প্রথম এই বিষয়টি আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে(১৮৭৩ সালে) লিভাইসের তরফেও এটিকে গ্রহণ করা হয়। যাদের নীল জিন্স সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয়।

সূত্র: এই সময়