বিশেষ: সমাজে কেন বাড়ছে গণপ্রহার, ব্যাখ্যা দিলেন সামাজিক বিশেষজ্ঞরা

গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক ঘটে চলেছে গণপিটুনির ঘটনা। চন্দননগর, বারাসত, অশোকনগর, ঝাড়গ্রাম, বিশরপাড়া, রাজারহাট, বউবাজার, চণ্ডীতলা, পাণ্ডুয়া, এমনকী শিয়ালদহেও মারমুখী জনতা निर्दोष মানুষের উপর হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনাগুলিতে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানিও হয়েছে।

কিন্তু কেন ঘটছে এমন ঘটনা? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।

১) আবেগ ও আচরণের ছোঁয়াচে বহিঃপ্রকাশ: মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন ব্যক্তির মারমুখী আচরণ অন্যদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যখন একজন ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়, তখন অন্যরাও ভিড়ের মোহে অথবা সামাজিক স্বীকৃতির আশায় একই কাজে যোগদান করতে পারে।

২) গণ-হিস্টিরিয়া: কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই ঘটনাগুলিকে গণ-হিস্টিরিয়ার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা আবেগের তীব্রতায় বাস্তবজ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং অযৌক্তিক আচরণ করে। এক্ষেত্রে, মনে করা হচ্ছে, ভিড়ের উত্তেজনা ও আবেগের প্রভাবে মানুষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে এবং निर्दोष মানুষের উপর হামলা চালাচ্ছে।

৩) সামাজিক-অর্থনৈতিক অসন্তোষ: সমাজতত্ত্ববিদরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক বেকারত্ব, দারিদ্র্য এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অসন্তোষের পরিবেশ এই ধরণের হিংসাত্মক আচরণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। মানুষ যখন হতাশ ও অসহায় বোধ করে, তখন তারা তাদের রাগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য সহজেই হিংসার দিকে ঝুঁকে পড়ে।

৪) আইন ও প্রশাসনের প্রতি অবিশ্বাস: আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাসও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে। যখন মানুষ মনে করে যে আইন তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন তারা নিজেদের হাতে আইন নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

৫) ভুয়া খবর ও অপপ্রচার: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার ছড়ানোও এই সমস্যার জন্য অনেকাংশে দায়ী। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, ভুয়া খবরের মাধ্যমে মানুষকে উত্তেজিত করে তাদের हिंसात्मक কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে প্ররোচিত করা হচ্ছে।