‘সত্য শোনার ক্ষমতা নেই’, বিরোধীদের ওয়াক আউটকে কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

লোকসভার পুনরাবৃত্তি ঘটলো রাজ্যসভায়। বুধবার সংসদের উচ্চকক্ষে জবাবী ভাষণ দিতে উঠেও আজ ফের বিরোধীদের স্লোগানের মাঝে পড়তে হল প্রধানমন্ত্রী মোদীকে।
বক্তব্যের শুরুতেই এদিন নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ফের একটি সরকারকে তৃতীয়বারের জন্য বেছে নিয়ে দেশের জনতা। বিপুল সমর্থন-আশীর্বাদ করে ফের NDA সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে জনগণ। কিছু মানুষ জেনেবুঝেও বাস্তব দেখতে পাচ্ছেন না। কেউ কেউ আবার বুঝতে পারেনি। যারা বুঝতে পেরেছে তাঁরা চেষ্টা করেছে জনতার এই গুরুত্বপূর্ণ নির্ণয়টিকে কী ভাবে ব্ল্যাক আউট করা যায়। গত দু’দিন ধরে দেখছি শেষ পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন অনেকেই।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে দেশের মানুষের বিবেক বুদ্ধি নিয়ে গর্ব হচ্ছে। তারা প্রোপাগান্ডার রাজনীতিতে পরাস্ত করেছে। পারফর্ম্যান্সকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৭৫তম বর্ষে প্রবেশ করছি। সংসদেরও ৭৫তম বর্ষ এটি। সংবিধানের প্রতিটা শব্দ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নীতি নির্ধারণে সংবিধানই মার্গ দর্শন করায়। যখন ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস পালনের প্রস্তাব তোলা হয় তখন যারা আজ সংবিধান নিয়ে প্রদর্শন করে তারা বিরোধিতা করেছিল।’
তুমুল উত্তেজনার মাঝে বারবার থামতে হয় নরেন্দ্র মোদীকে।
নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘এতগুলি মিথ্যা রটানোর পর সত্য শোনার ক্ষমতা নেই তাঁদের। দেশ দেখছে। জনতার নির্ণয় এবং পরাজয়ের পর অলি-গলিতে স্লোগান দেওয়া আর চিৎকার করা ছাড়া কোনও কাজ নেই তাঁদের। তাই আজ ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গেলেন।’
তাঁর কথায়, ‘সংসদের বিরোধী সাংসদরা আমায় পিঠ দেখিয়ে যাননি, সংবিধানের অপমান করেছেন। সংসদের উচ্চকক্ষকে অসম্মান করেছেন।’
মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণে জবাবে বক্তব্যে বেশ কিছু ভুল মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বদা মিথ্যা বলা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমরা জিজ্ঞাসা করেছি RSS তো সংবিধান তৈরির সময় বিরোধিতা করেছিল। উনি বলছেন আমরা না কি বাবাসাহেব আম্বেদকরকে অসম্মান করেছি। আমি শুধু বলতে চেয়েছিলাম বাবাসাহেব কী বলেছিলেন এবং RSS-এর কী ভূমিকা ছিল। কিন্তু, আমায় বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।’