ব্যাঙ্ক লোন মেটানোই চ্যালেঞ্জ উচ্ছেদ হওয়া হকারদের কাছে, পরিবারের বাড়ছে উদ্বেগ

বর্ধমান শহরের জেলখানা মোড় থেকে চার্চ রোড পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে অবৈধভাবে দোকান করতেন এমন ২৩ জন হকার গত সোমবার উচ্ছেদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে মাইক্রো ফাইন্যান্স স্কিমে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ঋণের পরিমাণ ২৯ লাখ টাকারও বেশি।
উচ্ছেদের পর এই ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে চিন্তায় পড়েছেন ওই হকাররা। তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঋণের পরিমাণ ও ব্যবহার:
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের মধ্যে, সন্দীপ গুপ্ত ৪ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন এবং প্রতি সপ্তাহে ৬ হাজার টাকা করে কিস্তি পরিশোধ করতেন। ঝুম্পা সাহা-র ৬০ হাজার টাকা ঋণ ছিল, যা তিনি পূর্বের ঋণ শোধ করে নিয়েছিলেন এবং বর্তমানে সপ্তাহে ৯০০ টাকা করে কিস্তি দিচ্ছিলেন। মুন্সি মইদুল ইসলাম ওরফে রনির দুটি ঋণ চলছে – আড়াই লক্ষ টাকা এবং তিন লক্ষ টাকা।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব:
হকারদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে, ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ব্যাঙ্কগুলি ঋণের কিস্তি আদায় না হওয়ায় এবং ঋণ অনাদায়ী হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।হকারদের জীবিকা হারানোর ফলে তাদের পরিবারের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এছাড়াও, স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সমাধানের সম্ভাব্য উপায়:
সরকার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ঋণ পরিশোধে সহায়তা করতে পারে।হকাররা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের জন্য নতুন সময়সূচী নির্ধারণ করতে পারে।হকারদের বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজে বের করতে সহায়তা করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলি এগিয়ে আসতে পারে।
বর্ধমানের উচ্ছেদ হওয়া হকারদের ঋণের বোঝা একটি জটিল সমস্যা যার সমাধানের জন্য সরকার, ব্যাংক এবং হকারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।