রাহুল গান্ধী ‘হিন্দুদের অপমান’ করেছেন, ক্ষমা চাইতে হবে: দাবি বিজেপির

ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নতুন নেতা কংগ্রেসের এমপি রাহুল গান্ধী সব হিন্দুকে অপমান করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টি)।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ বলেছেন, বিরোধী নেতা বলেছেন-যারা নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেয়, তারা সহিংসতার কথা বলেন। তিনি জানেন না, কোটি কোটি (মানুষ) গর্বিতভাবে নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেয়। যে কোনো ধর্মের সঙ্গে সহিংসতা যুক্ত করা ভুল।
অমিত শাহ বলেন, রাহুল গান্ধীর অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। সব হিন্দুকে সহিংস হিসেবে চিত্রিত করা মন্তব্যের জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।
‘হিন্দুদের সহিংস বলে অপমান’ করার জন্য রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করেছেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সোমবার বিকালে লোকসভায় প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন রাহুল।
বক্তব্যে তিনি বিজেপি ও এর আদর্শিক পরামর্শদাতা কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের ওপর তীব্র আক্রমণ চালান বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
পরে রাহুল গান্ধীর বক্তৃতার কিছু অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখতে রাহুল ভারতীয় সংবিধানের একটি কপি ও দেবতা শিবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের অনেকগুলো ছবি নিয়ে পার্লামেন্টে হাজির হন।
বক্তব্যে রাহুল বলেন, ভারতের ধারণার ওপর, সংবিধান ও যারা সংবিধানের ওপর আক্রমণ প্রতিহত করছে সেই জনগণের ওপর পূর্ণ মাত্রার ও পদ্ধতিগত আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, বহু বিরোধীদলীয় নেতার ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছে। এখনো অনেকে কারাগারে আছেন।
এখানে তিনি দিল্লির কারাবন্দি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (এপিপি) কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অংশ। দিল্লি সরকারের মদ নীতি কেলেঙ্কারির মামলায় গ্রেফতার হয়ে কেজরিওয়াল এখন দিল্লির তিহার কারাগারে আছেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাহুল শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানকের একটি ছবিও প্রদর্শন করেন এবং সবাইকে আশ্বাস দিতে অভয় মুদ্রা হিসেবে ডান হাতের পাঞ্জা প্রদর্শন করেন, যা তার দল কংগ্রেসেরও প্রতীক এবং জোর দিয়ে বলেন, ভয় পাবেন না, ভয় পাবেন না।
এ পর্যায়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাকে সতর্ক করেন।
অভয় মুদ্রা লোকজনকে ভয় দূর করতে শেখায় এবং একই পাঠ সব ধর্মই শেখায় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, অভয় মুদ্রা কংগ্রেসের প্রতীক। এটি নিরাপত্তার প্রতীক। এটি ভয়কে দূরে করে এবং হিন্দু, মুসলিম, শিখ, বৌদ্ধ এবং অন্য ভারতীয় ধর্মাবলম্বীদের স্বার্গীয় সুরক্ষা দেয়।
মোদী দুইবার দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতার মন্তব্য খণ্ডন করার চেষ্টা করেন।
প্রথমবার তিনি বলেন, পুরো হিন্দু সম্প্রদায়কে সহিংস বলা একটি গুরুতর বিষয়।
এর জবাবে রাহুল বলেন, মোদী জি, পুরো হিন্দু সম্প্রদায় বিজেপি ও আরএসএস নয়।
তিনি দ্বিতীয়বার রাহুলের বক্তব্য খণ্ডন করতে শুরু করলে বিরোধীরা তাকে ব্যঙ্গ করেন।
মোদী বলেন, সংবিধান তাকে বিরোধীদলীয় নেতার পদটিকে সম্মান জানানোর শিক্ষা দিয়েছে, এখন যে পদে রাহুল আছেন।
তার এই বক্তব্যই বিরোধীদের ব্যঙ্গ করার ইন্ধন যোগায়, কারণ তাদের অভিযোগ মোদী সরকার ভারতের সংবিধানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত মাসে লোকসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন এমপি ‘জয় সংবিধান’ শব্দটি যুক্ত করছিলেন।
মোদীর মন্তব্যের পর রাহুল বলেন, ভালো লাগে যে আমার পরে বিজেপির লোকজনও এখন ‘জয় সংবিধান’ পুনরাবৃত্তি করছে।