OMG! বজ্রপাতের সতর্কবার্তা, কিন্তু বৃষ্টি কই দক্ষিণবঙ্গে? “ইম্পুনডুলু”-র আশংকা ভাইরাল নেটদুনিয়ায়

বৃষ্টির আশায় দক্ষিণবঙ্গের মানুষ, কিন্তু আবহাওয়া অফিস জারি করেছে বজ্রপাতের সতর্কতা। হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের নয়টি জেলায়। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়াও ব颳তে পারে।
আগামী কয়েক দিন এই সতর্কবার্তার আওতায় থাকবে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলি জেলা। দক্ষিণবঙ্গের বাকি ছয়টি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
কিন্তু বৃষ্টি কবে হবে? এ নিয়ে স্পষ্ট কোন পূর্বাভাস নেই। আবহাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, জুনের প্রথম ১৮ দিনে কলকাতায় মাত্র ১.২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল মাসে টানা ২৪ দিন তীব্র দাবানলের পর জুন মাসে ফের তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলোয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে।
বজ্রপাতের কারণ ব্যাখ্যা করে আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, শুষ্ক আবহাওয়া এবং বাতাসে ধুলোকণার প্রাচুর্যই দক্ষিণবঙ্গের বিরাট এলাকাকে বজ্রপাতের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।
এই বজ্রপাতের সতর্কবার্তার সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ‘ইম্পুনডুলু’-আতঙ্ক। দক্ষিণ আফ্রিকার জ়ুলু জনজাতির উপকথায় পাওয়া যায় এই ‘ইম্পুনডুলু’ নামক পাখির কথা। মানুষের সমান আকারের এই সাদা-কালো রঙের পাখির ঝাঁক ভয়াবহ ঝড় ও বজ্রপাত ডেকে আনে বলে বিশ্বাস করেন জ়ুলুরা।
দক্ষিণবঙ্গে বজ্রপাতের আবহ তৈরি হওয়ার পর আলিপুর হাওয়া অফিস থেকে এই সতর্কবার্তা জারি হওয়ার সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে শুরু করে ‘ইম্পুনডুলু স্টর্ম’ নিয়ে নানা ধরণের পোস্ট। কিন্তু আবহাওয়া বিজ্ঞানে এরকম কিছু হয় কি? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘ইম্পুনডুলু স্টর্ম’ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায়?
আবহবিদ এবং বজ্রপাত বিশেষজ্ঞ এসডি পাওয়ার বলছেন, ‘আবহাওয়া বিজ্ঞানে অনেক বিশেষ শব্দবন্ধের প্রয়োগ করা হয়। যেমন—প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রতল গরম থাকলে ‘এল নিনো’ এবং সমুদ্রতল ঠান্ডা থাকলে ‘লা নিনা’ বলা হয়। কিন্তু ‘ইম্পুনডুলু স্টর্ম’ শব্দটা আমার কাছে নতুন।’
পাওয়ারের কথায়, ‘বাতাসে প্রচুর পরিমাণে ধূলিকণা এবং একেবারে শুকনো আবহাওয়া সব সময়েই বজ্রপাতের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। এই কারণেই কালবৈশাখীর সময়ে এত বাজ পড়ে। কারণ ওই সময়ে ভাসমান ধূলিকণা খুব বেশি থাকে আর শীতের পর বেশ কয়েক মাস বৃষ্টির অভাবে বাতাস একেবারে শুকনো থাকে।