বিশেষ: কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, কমেছে মুনাফাও, ধুঁকছে গ্রাম বাংলার শাঁখা শিল্প

হাওড়ার বাগনান ব্লকের বাঁটুল গ্রাম। এক সময় ছিল, এই গ্রামের কয়েকশো পরিবারের জীবিকা ছিল ঐতিহ্যবাহী শঙ্খ শিল্প। শঙ্খ দিয়ে তৈরি নানা সামগ্রী দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছিল। কিন্তু আজ, কাঁচামালের অভাব, দক্ষ কারিগরের সংকট এবং বাজারজাতকরণের সমস্যায় জর্জরিত এই শিল্প।
নব্বইয়ের দশকে বাঁটুল গ্রামে শঙ্খ শিল্পের সোনালী যুগ ছিল।শত শত মানুষ এই শিল্পের সাথে জড়িত ছিলেন।তৈরি হত নানা আকারের শঙ্খ, শঙ্খের থালা, শঙ্খের গয়না, এমনকি শঙ্খের ভাস্কর্যও।স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি বিদেশেও রপ্তানি হত এই সব জিনিস।
ধীরে ধীরে কাঁচামাল সংগ্রহের ক্রমবর্ধমান কঠিনতা শঙ্খ শিল্পের প্রথম ধাক্কা ছিল।সমুদ্র থেকে পর্যাপ্ত শঙ্খ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।দামও বেড়ে যায়।একই সাথে, দক্ষ কারিগরদের সংখ্যা কমতে থাকে। নতুন প্রজন্ম এই শিল্পে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।বাজারজাতকরণের অক্ষমতাও আরেকটি বড় সমস্যা।
ঐতিহ্যবাহী শিল্পীরা আধুনিক ব্যবসায়িক কৌশল সম্পর্কে অজ্ঞ।ফলে, তাদের তৈরি জিনিসপত্রের সঠিক দাম পাওয়া যায় না।
আজ, বাঁটুল গ্রামে মাত্র কয়েকটি পরিবার এখনও শঙ্খ শিল্পের সাথে যুক্ত।অনেকেই অন্য পেশায় চলে গেছেন।যারা টিকে আছেন, তারাও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে।শঙ্খ শিল্পীদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উদ্যোগ ছাড়া এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।
সম্ভাব্য সমাধান:
সরকার শঙ্খ সংগ্রহের জন্য উন্নত পদ্ধতি প্রবর্তন করতে পারে। নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। সরকার শিল্পীদের বাজারে তাদের পণ্যের প্রচার ও বিক্রিতে সহায়তা করতে পারে।শিল্পীদের সহজ সুদে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।
বাঁটুল গ্রামের শঙ্খ শিল্প শুধু একটি ঐতিহ্য নয়, এটি গ্রামের অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।