করিনা-সইফের বিয়েতে বাসন মাজা এই ছেলে বর্তমানে কোটি টাকার মালিক! জেনেনিন তার পরিচয়

মানুষের জীবন কতই না অদ্ভুত! আজ রাজা, কাল ফকির। আসিফ খানের গল্পও ঠিক তেমনই। রূপকথার আখ্যানের মতোই নাটকীয়।
২০১০ সালে হঠাৎ করেই আসিফের বাবা মারা যান। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আসিফ তখন স্বপ্ন দেখেন অভিনয়ের। কিন্তু মায়ের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব ছিল না।
তবুও জেদের পথে মুম্বই চলে যান আসিফ। পকেটে টাকা নেই, কিন্তু অভিনয়ের ইচ্ছে ষোলোআনা। নিজের পেট চালানোর জন্য এক পাঁচতারা হোটেলে কাজ শুরু করেন।
কয়েক মাস পর সেই হোটেলে বলিউডের তারকা জুটি সইফ আলি খান ও করিনা কাপুর খানের বৌভাতের আয়োজন হয়। রান্নাঘরের দায়িত্ব ছিল আসিফের। সেই বিয়েতে বাসনও মেজেছিলেন তিনি।
কিন্তু হার মানেননি আসিফ। কখনও হোটেল, কখনও শপিং মলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও অভিনয়ের স্বপ্ন ছাড়েননি।
অবশেষে ভাগ্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফিরে আসেন রাজস্থানে। থিয়েটারের গ্রুপে যোগ দেন। অল্প অল্প করে ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের সাথে পরিচয় বাড়ে।
অডিশনের পর অডিশন, ব্যর্থতার মুখোমুখি হলেও হাল ছাড়েননি। একদিন কাস্টিং ডিরেক্টরের সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।
এই সুযোগই ছিলো তার জীবনের転機। সাইড রোল দিয়ে শুরু করে ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’, ‘পাগলাইট’ এর মতো ছবিতে কাজ করেন।
View this post on Instagram
হঠাৎই জীবন পাল্টে যায়। ‘জামতারা’ ওয়েব সিরিজে এক উল্লেখযোগ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। এরপর ‘পাতাললোক’, ‘মির্জাপুর’-এ কাজ করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান।
‘পঞ্চায়েত’ সিরিজের প্রথম সিজনে যাকে ঘৃণা করা হয়েছিল, তৃতীয় সিজনে তাকেই ভালোবেসে ফেলেছেন সকলে।
আজ সেই বাসন মাজা ছেলে কোটি টাকার মালিক। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি’, ‘সেকশন ১০৮’, ‘কাকুড়া’, ‘নোরানি চেহরা’, ‘ইশক চকাল্লাস’, ‘দ্য ভার্জিন ট্রি’-র মতো ছবিতে কাজ করছেন।
সত্যিই চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়।
আসিফ খানের এই অসাধারণ যাত্রা আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণা।