NEET-পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ রয়েছে বিহার পুলিশের হাতেই!

কেন্দ্রীয় সরকার যতই দাবি করুক, এবারের নীট পরীক্ষায় কোন দুর্নীতি হয়নি, তদন্তের শুরুতেই বিহার পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (ইওইউ) স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নীটে প্রশ্ন ফাঁসের সব রকম প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুঙ্গে উঠেছে #ReNEET স্লোগান। এই হ্যাশট্যাগের পাশাপাশি #NEETScam2024ও ট্রেন্ডিং হচ্ছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। শুধুমাত্র ১৫৬৩ জনের জন্য নয়, বরং পুরো ২৪ লক্ষ নীট পরীক্ষার্থীর জন্যই আবার পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন নীট প্রত্যাশী থেকে শুরু করে তাদের অভিভাবকরাও। তাদের বক্তব্য, ১৫৬৩ জনই যখন গ্রেস মার্কস পেয়েছে, তাহলে বাকিদের সংখ্যাটা যে তার বহুগুণ বেশি নয়, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে? নীট পরিচালনাকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) যেহেতু অনেকাংশেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, তাই তাদের দাবির আর দাম কী!
এদিকে বিহার পুলিশের এডিজি এনএইচ খান সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “তদন্তে এখন পর্যন্ত যা কিছু পাওয়া গিয়েছে, তাতে প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।” নীট দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিহার পুলিশের তদন্তে একের পর এক ‘ব্রেকিং নিউজ’ শোনা যাচ্ছে পাটনা থেকে। পিছিয়ে নেই হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাটও। শুধুমাত্র পাটনাতেই ১৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে।
তাদের জেরা ও বাড়ি-অফিস তল্লাশি করে যে তথ্য জানতে পেরেছে বিহার পুলিশের ইকনমিক অফেন্স ইউনিট (ইওইউ), তা চমকে যাওয়ার মতো। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬টি ৩০ লক্ষ টাকার পোস্ট-ডেটেড চেক। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রশ্নপত্র প্রতি ১০ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি মিলিয়ে মোট ৩০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে।
পাটনার একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে থেকে যে আধপোড়া প্রশ্নপত্র উদ্ধার হয়েছিল, তা মূল প্রশ্নের সাথে মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রে পুলিশের সাথে সহযোগিতা করছে না বলেও অভিযোগ তোলা হচ্ছে এনটিএ-র বিরুদ্ধে। ধৃতদের জেরা করে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে তাদের বয়ান আদালতে পেশ করেছে বিহার পুলিশ।