গরমে পুকুরের জল তলানিতে, বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে মৎস চাষিরা

পূর্ব বর্ধমান জেলার মাছ চাষিরা উদ্বিগ্ন। গত প্রায় দু’মাস ধরে অস্বাভাবিক গরমের কারণে পুকুরের জল অনেকটাই কমে গেছে। টলটলে জলের পুকুরে এখন কোমর-জলও তাও মাঝখানে। বৃষ্টি না হওয়ায় মাছের চারাও ছাড়তে পারেননি চাষিরা। ফলে পুকুরে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলার কান্দি, কাটোয়া, নবগ্রাম, রানাঘাট সহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। এই পুকুরগুলো থেকে উৎপাদিত মাছ সরাসরি স্থানীয় বাজারগুলোতে সরবরাহ করা হয়।
কিন্তু তীব্র গরমের কারণে পুকুরের জল দ্রুত কমে যাচ্ছে। অনেক পুকুরে এখন কোমর-জলও নেই। এর ফলে মাছের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
মাছ চাষিরা বলছেন, “গত বছর এই সময় বৃষ্টি হওয়ায় পুকুরে পর্যাপ্ত জল ছিল। তাই মাছের উৎপাদনও ভালো ছিল। কিন্তু এবার বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুরের জল কমে গেছে। এর ফলে মাছের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
তারা আরও বলছেন, “যদি দ্রুত বৃষ্টি না হয়, তাহলে পুকুরের মাছ মারা যেতে পারে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।”
এই সমস্যা সমাধানের জন্য মাছ চাষিরা কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন:
পুকুরের জল বাঁচাতে ছাউনি দেওয়া যেতে পারে।পুকুরের জলে জলজ উদ্ভিদ ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে জল ঠান্ডা থাকবে এবং অক্সিজেনের মাত্রাও বাড়বে।
মাছের খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে।নিয়মিত পুকুরের জল পরীক্ষা করে প্রয়োজনে ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
সরকারও মাছ চাষিদের সাহায্য করতে পারে:
মাছ চাষিদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায়ার আয়োজন করা যেতে পারে।মাছ চাষের জন্য সরকারি ভর্তুকি প্রদান করা যেতে পারে।মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা যেতে পারে।আশা করা যায়, সরকার ও মাছ চাষিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।