ওয়াসিম আকরাম থেকে রণদ্বীপ হুদা, চিনে নিন সুস্মিতার পুরোনো প্রেমিকদের

সুস্মিতা সেনের সঙ্গে প্রেম করছেন—গতকাল টুইটারে রীতিমতো ‘বোমা’ ফাটিয়েছেন ললিত মোদি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের (আইপিএল) প্রাক্তন এই কমিশনার বলিউড অভিনেত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিও শেয়ার করেছেন। হঠাৎই তাঁদের প্রেমের খবর নিয়ে অন্তর্জালে ঝড় বয়ে গেছে। সুস্মিতা সেনের ভাই থেকে শুরু করে এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ললিত মোদির সন্তান পর্যন্ত। বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং তো নতুন এই যুগলকে শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে সুস্মিতা সেনের নতুন প্রেমের খবর জানা গেলেই অবধারিতভাবে মনে পড়ে যায় তাঁর পুরোনো প্রেমগুলোর কথা। ক্রিকেটার, পরিচালক, অভিনেতা থেকে ব্যবসায়ী—কার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়নি। বছর তিনেক আগে রহমান শালের সঙ্গে প্রেমের খবর নিয়ে আবারও শিরোনামে আসেন সুস্মিতা।

তাঁর ১৫ বছরের ছোট রহমান পেশায় মডেল। তবে তিন বছরের সম্পর্ক ভেঙে যায় গত বছর। তখন রহমানের জন্মদিনের এক পোস্ট করে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেন সুস্মিতা নিজেই, ‘আমরা বন্ধু হিসেবে পথচলা শুরু করেছি, বন্ধু থাকব।’

বলিউড অভিনেতা রণদ্বীপ হুদার সঙ্গেও তিন বছরের প্রেম ছিল সুস্মিতার। তাঁদের আলাপ ‘কর্মা অ্যান্ড হোলি’ ছবির শুটে। তবে প্রেম না টিকলেও তাঁদের বন্ধুত্ব এখনো অটুট বলেই খবর।

পাকিস্তানি পেসার ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সুস্মিতার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। এমনকি তাঁদের বিয়ের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। পরে সুস্মিতা অবশ্য সে খবর অস্বীকার করেছেন। ২০০৮ সালে একসঙ্গে একটি রিয়েলিটি শোর শুটিংয়ের সময় দুজনের প্রেমের গুজব রটে। তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ জানা যায়নি।

ব্যবসায়ী অনিল আম্বানির সঙ্গেও সুস্মিতার সম্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়। তাঁদের গোপন প্রেম নিয়ে খুব বেশি চর্চা না হলেও জানা যায়, সুস্মিতার সঙ্গে প্রেম নিয়ে ভীষণ সিরিয়াস ছিলেন অনিল। এমনকি নিজের স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদেও রাজি ছিলেন। গুঞ্জন আছে, সুস্মিতাকে ২২ ক্যারেট হিরের আংটি উপহার দিয়েছিলেন অনিল।

চলচ্চিত্র নির্মাতা মানব মেননের সঙ্গেও সুস্মিতার প্রেমের গুঞ্জন জোরেশোরেই শোনা গেছে একটা সময়। ২০১১ সালেও তাঁদের একসঙ্গে বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে দেখাও গেছে। আরেক নির্মাতা বিক্রম ভাটের সঙ্গে সুস্মিতার প্রেমের গুঞ্জন আরও পুরোনো। ১৯৯৬ সালে ‘দস্তাক’ সিনেমার শুটিংয়ে তাঁদের প্রেম। মহেশ ভাট পরিচালিত সিনেমাটির লেখক ছিলেন বিক্রম।

সেলিব্রিটি ম্যানেজার বান্টি সাজদিশের সঙ্গেও প্রেম ছিল প্রাক্তন এই বিশ্ব সুন্দরীর। তবে সে প্রেমও বেশি দিন থাকেনি। কেবল সুস্মিতাই নন, বান্টির সঙ্গে দিয়া মির্জা, নেহা ধুপিয়া, সোনাক্ষী সিনহারও প্রেম ছিল বলে শোনা যায়। বান্টি বিরাট কোহলি, শেখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মার মতো ক্রিকেটারদের ম্যানেজার ছিলেন।

সিনেমা প্রযোজক ইমতিয়াজ খারটির সঙ্গে অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন অবশ্য খুব বেশি প্রচার পায়নি। যেটা পেয়েছিল আরেক নির্মাতা মুদাসসর আজিজের ক্ষেত্রে। ২০১০ সালে ‘দুলহা মিল গ্যায়া’র শুটিংয়ে সম্পর্কে জড়ান তাঁরা।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী সাবির ভাটিয়ার সঙ্গে সুস্মিতার সম্পর্কও বেশি দিন টেকেনি। এই সাবির ছিলেন ওয়েবমেল কোম্পানি হটমেইলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। মুম্বাইয়ের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী সঞ্জয় নারাংয়ের সঙ্গেও নাম জড়ায় সুস্মিতার। বিক্রম ভাটের সঙ্গে প্রেম ভাঙার পর অল্প কিছুদিন সঞ্জয়ের সঙ্গে প্রেম ছিল অভিনেত্রীর।

মুম্বাইয়ের আরেক ব্যবসায়ী রিতিক বাসিনের সঙ্গেও প্রেম করেছেন ‘আরিয়া’ অভিনেত্রী। তাঁদের চার বছরের প্রেম ভাঙে ২০১৭ সালে। এতবার প্রেমের সম্পর্কে জাড়ালেও সাত পাকে বাঁধা পড়েননি সুস্মিতা। প্রেমের ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর বর্তমান প্রেমিক ললিত মোদি অবশ্য বিয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। দেখা যাক, এবার সেটা হয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *