৯৯ টাকার অফার! নেই NOC, সরু এন্ট্রি-এক্সিট গেট, প্রাণ গেলো ২৮ জনের

সপ্তাহান্তে আনন্দের জন্য গেমিং জোনে যাওয়া কতজনের জন্যই না শেষ হয়ে গেল বিষাদে! মেঝেতে পড়ে রয়েছে চাপ চাপ রক্ত, পোড়া মাংসের গন্ধ আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। দমকল কর্মীরা উদ্ধারের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। রাজকোটের একটি গেমিং জোনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জের ধরে ২৭ জন নিহত, মৃতদের মধ্যে রয়েছে ১২ শিশুও। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, কিভাবে এত বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারল?

উইকেন্ড স্পেশাল অফারের টানে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রচুর মানুষ। ৯৯ টাকা প্রবেশমূল্যের অফারে ভিড়ে থিকছিকে করেছিল টিআরপি গেমিং জোন। আগুন লাগার পর ধাক্কাধাক্কি-ঠেলাঠেলি করে অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেননি। প্রবেশ পথ সরু হওয়ার এবং তার উপর জ্বলন্ত কাঠ ও লোহার পাইপ পড়ে যাওয়ার কারণে অনেকে আটকে পড়েছিলেন। কেউ কাঠামোর নীচে চাপা পড়ে গিয়েছেন, কেউ আবার দাউদাউ আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।

প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে আসছে গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ। দমকলের তথ্য অনুযায়ী, গেমিং জোনে জেনারেটরের জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ লিটার ডিজেল ও গো কার রেসিংয়ের জন্য ১০০০ থেকে ১৫০০ লিটার পেট্রোল সংগ্রহ করা হয়েছিল। এত দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণেই ভয়াবহ আকার নেয় আগুন।

গেমিং জোনের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ ছিল অত্যন্ত সরু। মাত্র ছয় থেকে সাত ফুট চওড়া এই পথের কারণেই অনেকে আগুন লাগার পর বেরিয়ে আসতে পারেননি।

আগুন লাগার পর গেমিং জোনের অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে পড়ে। বহু মানুষ এর নীচেই চাপা পড়ে যান। কাঠামো সরিয়ে দেহ উদ্ধার করতে দমকল বিভাগকেও বেশ বেগ পেতে হয়। দেহগুলি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার শনাক্ত করাও সম্ভব হচ্ছে না।

গেমিং জোনের মালিক, ম্যানেজার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে সরকার পাঁচ সদস্যের একটি সিট গঠন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে সিট জানতে পেরেছে, এই ধরনের গেমিং জোন চালানোর জন্য পরিকাঠামোগত যে অনুমতি প্রয়োজন তা ছিল না।