“আমি নিশ্চিত, এবার পশ্চিমবঙ্গে বেশি আসন পাব-ই”-বাংলা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোদী

২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনে সরগরম দেশের রাজনীতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সভা ও মঞ্চে দিচ্ছেন তাদের ভাষণ।আবার কোথায়ও কোথাও চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে কথার লড়াই। আবার কোথাও চলছে সরকারি সুবিধা ও অসুবিধা পাওয়া -না পাওয়ার বিষয়ে চর্চা।
ভোটের মুখে নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন সাজিবাদ মাধ্যমে দিচ্ছেন সাক্ষাৎকারে। সম্প্রতি তিনি NBT-এর আশিস পাণ্ডে এবং নরেন্দ্র নাথকে সাক্ষাৎকার দেন ও সেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে জানান তার অভিমত।
মোদীর বক্তব্য, ‘তৃণমূল হোক, কংগ্রেস বা বাম— সকলে বাংলায় একই পাপ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বুঝেছেন, এই দলগুলো শুধু আশ্বাস দিতে জানে, উন্নয়নের লক্ষ্য ওদের নেই। আগে অন্য রাজ্য থেকে লোক রোজগারের আশায় বাংলায় আসতেন, এখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বাধ্য হয়ে রাজ্য ছাড়ছেন। বাংলায় যে দলগুলো একে অন্যের বিরুদ্ধে ভোট লড়ছে, দিল্লিতে তারাই একসঙ্গে লড়ছে। ভোটারদের সঙ্গে এর থেকে বড় প্রতারণা আর কী হতে পারে?’ তাঁর সংযোজন, ‘বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, হিংসা, অরাজকতা, মাফিয়ারাজ, স্বজনপোষণ সহ্য করছেন। টিএমসি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারে পরিণত হয়েছে। বাংলার পরিস্থিতি এখন এমনই, সরকারি চাকরি পেয়েও যুবসমাজ নিশ্চিন্ত হতে পারছে না, সেই চাকরি থাকবে কি না! অন্যদিকে বাংলার যুবসমাজের সামনে রয়েছে বিজেপির উন্নয়ন মডেল। আমি বাংলার যেখানেই প্রচারে গিয়েছি, বিজেপির প্রতি মানুষের আস্থা দেখেছি। বাংলার মা-বোনদের থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আমি অভিভূত। আমি নিশ্চিত, এবার পশ্চিমবঙ্গে বেশি আসন পাব-ই।’
তাপপ্রবাহ এবং অসহ্য গরমের কারণেই ভোটদানের হার কম বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তাঁর বার্তা, ‘প্রত্যেকে অফিসের জন্য বা নিজেদের কাজের জন্য রোদেও বাইরে বেরোচ্ছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ করব— ভোটদানকেও দায়িত্ব মনে করে পূরণ করুন।’
কাশ্মীরে ভোটদানের হার বাড়ায় উচ্ছ্বসিত মোদী। বললেন, ‘শ্রীনগরের পর বারামুলাতেও ব্যাপক ভোট পড়েছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর কাশ্মীরের মানুষ এখন স্বস্তিতে বাঁচছেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, ৩৭০-এর নামে এতদিন তাঁদের ঠকানো হয়েছে।’
মোদীর কথায়, ‘আজ আমরা আলোচনার টেবিলে বসলে উল্টোদিকের মানুষটি বোঝেন পুরোনো ভারত আর নেই। এখন যে কোনও চুক্তিতে ভারতীয়দের ভালো থাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যুদ্ধরত দু’টি দেশকে ভারত জোরের সঙ্গে বলতে পারে, এটা যুদ্ধের সময় নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সময়।’
নিজের সরকারের সাফল্যের কথাই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, ‘২০১৪-এর নির্বাচনী প্রচারের সময়ে আমি বুঝেছিলাম, মানুষ পরিবর্তন চাইছে। ২০১৯-এর ভোট প্রচারে বুঝেছি, আমাদের ৫ বছরের কাজ দেখে মানুষ ভরসা পাচ্ছে। আর ২০২৪-এর প্রচারে গিয়ে বুঝলাম, বিকশিত, দুর্নীতিমুক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখছে দেশবাসী।’