বিয়েতে পাওয়া উপহারের হিসেব রাখতে হবে বর-কনেকে, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের?

বিয়েতে যৌতুক ও উপহারের তালিকা তৈরি করে রাখতে হবে বর-কনেকে, এমন নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। পণ বিরোধী আইন অনুযায়ী, উপহার বা যৌতুক হিসেবে পাওয়া জিনিসপত্র পণ বলে গণ্য করা হয় না। তাই বিয়ের সময় কী কী পাওয়া হচ্ছে তার একটি তালিকা তৈরি করে উভয়পক্ষকেই সই করে রাখা আইনি বাধ্যতা।

এই নির্দেশের পেছনে আদালতের যুক্তি:

পণ নেওয়ার ভুয়া অভিযোগ রোধ: অনেক সময় দেখা যায়, বিয়ের পর মেয়ের পক্ষ থেকে যৌতুক না পাওয়ার অভিযোগে মামলা হয়। তালিকা থাকলে সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে।

আইনি জটিলতা কমানো: যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় আদালতকে প্রমাণ সংগ্রহে বেগ পেতে হয়। তালিকা থাকলে আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হবে।

সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।

উত্তর প্রদেশ সরকারকে প্রশ্ন:

এই মামলায় আদালত উত্তর প্রদেশ সরকারকে জিজ্ঞেস করেছে যে, রাজ্যে কতজন ডাউরি প্রহিবিশন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে এবং তারা কি সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। আদালত সরকারকে হলফনামা জমা দিয়ে এই বিষয়ে জানাতে বলেছে।

যৌতুক প্রথা: একটি সামাজিক অভিশাপ

যৌতুক দাবি করা আইনত অপরাধ, তবুও আজও সমাজে এই অপ্রথা বিদ্যমান। মেয়ের বিয়েতে অঢেল সম্পদ দিতে হয়, যার ফলে অনেক পরিবার ঋণের বোঝা নেমে পড়ে। রাজস্থানের দৌসার একটি ঘটনায় এক মা তার পাঁচ মেয়ের বিয়ের জন্য ১১ কোটি ৫১ লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছেন। এই ঘটনা যৌতুক প্রথার ভয়াবহতা উন্মোচন করে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নির্দেশ যৌতুক প্রথা বন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সকলের উচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে φωνা উঠানো।