ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ, মহিলা অধ্যাপককে মাটিতে ফেলে গ্রেফতার!

গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উত্তাল যেন এখন তুঙ্গে। সপ্তাহজুড়েই শিক্ষার্থীদের দমন করার জন্য বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুলিশের আশ্রয় নিয়েছে; গ্রেফতার হয়েছেন শত শত শিক্ষার্থী।
সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এরইমধ্যে জর্জিয়ার আটলান্টায় অবস্থিত এমোরি ইউনিভার্সিটির কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীর ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। এমনকি নারী এক অধ্যাপককেও গায়ের জোরে মাটিতে ঠেসে ধরে হাতকড়া পরায় তারা।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রচার করেছে। ভিডিওটি এরইমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যামোরি ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক ক্যারোলাইন ফলিন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কথা বলতে গেলে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা তার ওপর চড়াও হয় এবং চোখের পলকেই তাকে মাটিতে শুইয়ে ফেলে।

ভিডিও থেকে আরো দেখা গেছে, একপর্যায়ে অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা এসে অধ্যাপক ফলিনকে চেপে ধরে তার বুকের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাতটি বের করে এনে দুই হাতই পিছমোড়া করে এবং হাতকড়া পরিয়ে দেয়।

সিএনএনের শেয়ার করা ভিডিও থেকে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে এমোরি ইউনিভার্সিটির আটলান্টা ক্যাম্পাসে তাবু গেঁড়ে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যরা। এ সময় পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর সবাই মিলে চিৎকার দিয়ে উঠে।

একপর্যায়ে ফোলিনকে যখন মাটিতে ফেলে হাতকড়া পড়াতে থাকে পুলিশ তখন একদল প্রতিবাদকারীরা তাদের ঘিরে ফেলে এবং পুলিশকে গালি দিতে শুরু করে। এক বিক্ষোভকারী পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, তোরা হিটলার! তোরা পাগলা কুকুর! তোরা ফ্যাসিস্ট! তোদের লজ্জা নেই।

তিনি পুলিশ সদস্যদের ওই শিক্ষার্থীকে ‘ছেড়ে দিতে’ বলতে থাকলে পাশ থেকে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা এসে তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে ল্যাং দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন, আরো এক পুলিশ কর্মকর্তা এতে যোগ দিয়ে ফলিনকে মাটিতে ঠেসে ধরতে সহকর্মীকে সাহায্য করেন। এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা অধ্যাপক ফলিনের হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলেন। এ সময় ফলিন বারবার বলছিলেন, আমি একজন অধ্যাপক।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুসারে, উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ফিলিস্তিনপন্থি এই প্রতিবাদ প্রথমে শুরু হয় কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, তা এখনো শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে আছে। বিক্ষোভের লাগাম টেনে ধরতে কলেজ প্রশাসকদের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলছেন আইনপ্রণেতারা।

জানা গেছে, বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল কলম্বিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের বিষয়ে শুক্রবার রাতে সিনেটে প্রস্তাব পাস হয়েছে। বিক্ষোভের উত্তেজনা এরই মধ্যে ইয়েল, এমআইটি ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে।