ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ৫০ হাজার সেনা নিহত, এখনো চলছে তুমুল লড়াই

রাশিয়া-ইউক্রেনের দুই বছরের যুদ্ধে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি রুশ সেনার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে। এরপর থেকে বিবিসি রাশিয়ান, স্বাধীন মিডিয়া গ্রুপ মিডিয়াজোনা এবং স্বেচ্ছাসেবীরা মৃত্যুর সংখ্যা গণনা করছে। কবরস্থানে সৈন্যদের কবর, বিবিসির অফিসিয়াল রিপোর্ট, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ওপেন সোর্স থেকে পাওয়া তথ্য এই পরিসংখ্যান তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিবিসি অনুসন্ধান অনুসারে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দ্বিতীয় বছরেই ২৭ হাজার ৩০০ জনের বেশি রাশিয়ান সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে। তবে সৈন্য নিহতের সংখ্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি রাশিয়া।
বিবিসি বলছে, সামগ্রিক মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। বিশেষ করে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রুশ কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত সরকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা আট গুণ বেশি।
যদিও বিবিসির বিশ্লেষণে পূর্ব ইউক্রেনে রুশ-অধিকৃত দোনেস্ক এবং লুহানস্কে মৃত্যুর সংখ্যা হিসাবে নেওয়া হয়নি। সেটি হিসাবে নিলে রাশিয়ার পক্ষে মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হবে।
অন্যদিকে বিবিসি এবং মিডিয়াজোনার সাথে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবীরা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া জুড়ে ৭০টি কবরস্থানে নতুন সামরিক কবর গণনা করছেন। কবরস্থানগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে বলছে বিবিসি।
ছবি এবং ভিডিও থেকে বোঝা যায় যে এই নতুন কবরগুলির বেশিরভাগই ইউক্রেনে নিহত রুশ সেনা ও অফিসারদের।
বিবিসির ধারণা, রাশিয়ার নিহত যোদ্ধাদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের মধ্যে দুইজন এমন সেনা, যাদের যুদ্ধের আগে রুশ সেনাবাহিনীর সাথে কোনো সম্পর্ক ছিল না।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাশিয়ান সামরিক বাহিনীতে কারাবন্দীদের সংখ্যা বেশি। ২০২২ সালের জুনে পুতিন রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদের দল ওয়াগনারের সাবেক প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোঝিনকে কারাগার থেকে নিয়োগ শুরু করার অনুমতি দেন। বন্দি-যোদ্ধারা তখন রাশিয়ান সরকারের পক্ষে একটি ব্যক্তিগত সেনাবাহিনীর অংশ হিসাবে লড়াই করেছিল।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) স্যামুয়েল ক্র্যানি-ইভান্স বলেন, ২০২২ সালে যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়া জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য তার পেশাদার এবং অভিজ্ঞ সৈন্যদের ব্যবহার করতে পেরেছিল। তবে যুদ্ধের মধ্যে সেই অভিজ্ঞ সৈন্যদের অনেকেরই মৃত বা আহত হওয়ায় তাদের স্থানে অল্প প্রশিক্ষণ বা সামরিক অভিজ্ঞতা আছে এমন স্বেচ্ছাসেবক, বেসামরিক এবং বন্দীদের ব্যবহার করা হয়েছে।