হিন্দু নাম ব্যবহার করে নিয়েছিলেন আশ্রয়! ধৃত দুই জঙ্গির মাথার দাম কত ছিল জানেন?

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের যৌথ অভিযানে কাঁথি থেকে পরপর দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রামেশ্বরম ক্যাফে বিস্ফোরণে জড়িত থাকার অভিযোগে ধৃতদের তিন দিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে এ রাজ্যের স্পেশ্যাল NIA কোর্ট। শারীরিক পরীক্ষার পর NIA টিম ট্রানজিট রিমান্ডে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ধৃত দুই জঙ্গি শাজিব ও ত্বহাকে নিয়ে।

তদন্তে উঠে আসা তথ্য:
NIA তদন্তে জানা গেছে, শাজিব বোমা তৈরির পর একটি ব্যাগে ভরে রামেশ্বরম ক্যাফেতে রেখে আসে। হাত ধোয়ার বেসিন ও সিটিং এরিয়ার মাঝখানে রাখা হয়েছিল বিস্ফোরক বোমা ভর্তি ব্যাগটি।গোটা বিষয়ের পরিকল্পনা ও প্লটিং করেছিল আবদুল মাথিন ত্বহা।NIA আধিকারিকরা ধৃতদের কাছ থেকে একটি পেন ড্রাইভ, একটি হার্ড ডিস্ক এবং বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছেন। এই নথিগুলো বিশ্লেষণ করে রামেশ্বরম বিস্ফোরণের নেপথ্য রহস্য উন্মোচিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে ত্বহা ও শাজিবের আইএস যোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। সূত্র মতে, চার বছর আগে ২০২০ সালে আইএস-এর সাথে যুক্ত হয়েছিল তারা। এক সময় বিদেশেও গিয়েছিল। দেশে ফিরে কর্নাটক থেকেই নানা অপারেশনের পরিকল্পনা করে। এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনও করেছে বলে জানা যায়।

পলায়ন ও গ্রেফতার:
১ মার্চ রামেশ্বরম ক্যাফেতে বিস্ফোরণের পর ৭ মার্চ পর্যন্ত বেঙ্গালুরুতেই ছিল দুই অভিযুক্ত। এরপর নানা জায়গায় গা ঢাকা দেয় তারা। কখনও হিন্দু পরিচয়ে ছদ্মবেশে হোস্টেল, কখনও হোটেল, আবার কখনও কম ভাড়ায় পিজিতে আশ্রয় নেয়। ইতিমধ্যে তদন্তকারী অফিসাররা ওই দুই জঙ্গির মাথার দাম ঘোষণা করে ১০ লক্ষ টাকা। দুই জঙ্গিকে জীবিত অথবা মৃত ধরিয়ে দিতে পারলেই পুরুস্কার মূল্য হিসেবে দেওয়া হবে ১০ লক্ষ টাকা বলে ঘোষণা করা হয় কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি থেকে।

দু’বার ট্রেন বদল করে চেন্নাই থেকে কলকাতায় এসেছিল তারা। এরপর এখানকার বিভিন্ন হোটেলে থাকে। শেষ পর্যন্ত দিঘার একটি হোটেল থেকে NIA ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে।