বিক্ষোভকারীদের দখলে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের বাসভবন, প্রাসাদের টিভিতে বিক্ষোভের লাইভ দেখছেন বিক্ষোভকারীরা

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন দখলে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট পুলে সাঁতার, জিমে ব্যায়াম, খাওয়া-দাওয়া, শয়নকক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছে – এমন অনেক ছবিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এবার প্রেসিডেন্ট ভবনে থাকা টেলিভিশনে নিজেরাই নিজেদের বিক্ষোভের লাইভ দেখছেন- এমন ছবি নতুন করে ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

‘এনিথিং ইজ পসিবল’ নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একদল বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের একটি কক্ষের মেঝেতে শুয়ে টেলিভিশনে লাইভে নিজেদের বিক্ষোভ দেখছেন। তারা টেলিভিশনে ‘ব্রেকিং নিউজ’ও দেখছেন। টুইটের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে শ্রীলংকার বিক্ষোভকারীরা তাদের বিক্ষোভ দেখছেন।

গত কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতিতে এসব দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর গত সাত দশকে প্রথমবারের মতো ভয়াবহ বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার পাশাপাশি তীব্র খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত শনিবার সারা দেশের হাজার হাজার মানুষ রাজধানী কলম্বোতে জড়ো হন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা রাজাপাকসের সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়েন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।

অনলাইন ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, লোকজন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সুইমিং পুলে সাঁতার কাটছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের বিছানায় রেসলিংয়ে অংশ নেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের হানার আগেই বাসভবন ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে। বর্তমানে তিনি দেশটির নৌবাহিনীর একটি জাহাজে করে সমুদ্রে ভাসছেন বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, আগামী ১৩ জুলাই পদত্যাগ করবেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেও বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করতে এবং সর্বদলীয় সরকার গঠনের পথ তৈরি করে দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, শ্রীলংকার সেনাপ্রধান জেনারেল শাভেন্দ্র সিলভা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জনগণের সহায়তা চেয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী- দু’জনেই পদত্যাগ করলে শ্রীলংকার সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সেদেশে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্বোচ্চ ৩০ দিন দেশ পরিচালনা করতে পারবেন।

এর মধ্যেই পার্লামেন্টকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে, যিনি বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদের শেষ দুই বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *