চিকিৎসক হতে ৩ ফুটের গণেশের বাধা হতে পারেনি উচ্চতা, জেনেনিন তার প্রচেষ্টার কাহিনী

আসলে মানুষের ইচ্ছাশক্তির চেয়ে বড় কোনো শক্তি পৃথিবীতে নেই। মানুষ মন থেকে চাইলে এবং পরিশ্রম করলে সফল হয় না এমন কোনো কাজ নেই। তার আবারও প্রমাণ দিলেন ২৩ বছর বয়সী গণেশ বারাইয়া। শারীরিক গঠন ছোট হওয়ার কারণে বৈষম্যের সম্মুখীন হয়েছেন, কিন্তু থেমে যাননি। তিনি এখন বিশ্বের সবচেয়ে খাটো চিকিৎসক।
ভারতের গুজরাটের তালাজা থালুকা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং খুব অল্প বয়স থেকেই প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। তিনি স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু চার বছর বয়সে, তার বাবা-মা লক্ষ্য করেছিলেন যে তার মাথা তার শরীরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তাই তারা তাকে একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তারা জানতে পারেন গণেশ একটি দুরারোগ্য রোগে ভুগছে এবং তা ভালো করার কোনো উপায় নেই।
গণেশের মা তখন তার মাথায় একটি টবের মতো হেলমেট পরিয়ে রাখতেন যাতে এটি বাড়তে না পারে এবং তার শরীরকে বড় হওয়ার সুযোগ দেয়। স্কুলে, তার বড় মাথা এবং ছোট আকারের কারণে তাকে প্রায়ই উপহাস করা হত, কিন্তু তার এমন বন্ধুও ছিল যারা তাকে উৎসাহ, সাহস জুগিয়েছে। ফলে সে তার পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সক্ষম হয়েছিল।
‘বয়কট’ শব্দটি কীভাবে, কোথা থেকে এলো?
২০১৮ সালে ডাক্তারি এনট্রান্স পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন তিনি। এমবিবিএস পড়ার জন্য গুজরাটের ভাবনগর মেডিক্যাল কলেজে গিয়েছিলেন ভর্তি হতে। কিন্তু সেই সময় তাকে ভর্তির অনুমতি দেয়নি মেডিক্যাল কাউন্সিল। সংস্থার মতে, গণেশের উচ্চতা কম। জরুরি ভিত্তিতে রোগীর চিকিৎসা করা, তার পক্ষে অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।
কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে মুষড়ে পড়েছিলেন গণেশ বারাইয়া। পরিবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারের স্কুলের শিক্ষক এবং তার শুভাকাঙ্খীদের পরামর্শ নিয়েছিলেন তিনি। তারাই তাকে এ ব্যাপারে আইনের দ্বারস্থ হওয়ার জন্য দিয়েছিলেন পরামর্শ। এরপরেই মেডিক্যাল কাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গুজরাট হাইকোর্টে দায়ের করেছিলেন একটি মামলা।
মামলাটি পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কিন্তু তাতেও দমেননি গুজরাটের ওই বাসিন্দা। শীর্ষ আদালত গণেশের পক্ষে রায় দিয়েছিল। এরপর ভারতের ভাবনগর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয় তাকে।
দীর্ঘ আইনি পথ পার করে ২০১৯ সালের ১ আগস্ট গুজরাটের ভাবনগর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পড়তে ভর্তি হয়েছিলেন গণেশ বারাইয়া। শুরু হয় তার চিকিৎসক হওয়ার লড়াই। সম্প্রতি ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো ফল করে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ভাবনগরের একটি সরকারি হাসপাতালে ইন্ট্রান হিসেবে কর্মরত তিনি।
সূত্র: অডিটি সেন্ট্রাল