আসামে বাংলাভাষী মুসলিমদের বহু ও বাল্যবিয়ে বন্ধের উদ্যোগ, উদ্যোগ নিলো সরকার

ভারতের আসামে বাংলাভাষী মুসলিমদের (মিয়া) জন্য বহু ও বাল্যবিয়ে বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, বাংলাভাষী মুসলিমদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে আদিবাসী (ইনডিজেনাস) হিসেবে। তবে সেক্ষেত্রে শর্ত হলো আসামের ‘খিলঞ্জিয়া’ আদিবাসী হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ‘মিয়াদের’ অবশ্যই বাল্যবিয়ে ও বহুবিয়ের চর্চা ত্যাগ করতে হবে।
গত মাসে ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরই তাদের নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন হিমান্ত বিশ্বশর্মা।
তিনি বলেন, ‘মিয়ারা’ আদিবাসী বা আদিবাসী নন, সেটা আলাদা বিষয়। আমরা বলতে চাই, যদি তারা আদিবাসী হতে চান, আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সেজন্য তাদের নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে হবে।
হিমান্ত বিশ্বশর্মা বলেন, দুটি বা তিনটি বিয়ে আসামের কোনো সংস্কৃতি নয়। মিয়ারা যদি আদিবাসী হন তাহলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তাদের দুই-তিনটা বউ থাকতে পারবে না। তারা নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেন না। যদি বাংলাভাষী মুসলিমরা আসামের রীতি অনুসরণ করেন, তাহলে তাদেরও আদিবাসী (ইনডিজিনাস) হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।
এর আগে, ২০২৩ সালে হিমান্ত বিশ্বশর্মা বলেছিলেন, তার রাজ্যে বহুবিবাহ বন্ধে আইন প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতে কমিটি বলেছে, রাজ্য সরকার এ বিষয়ে আইন করতে পারবে। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বহুবিবাহ বন্ধে ২০২৩ সালের অক্টোবরে নির্দেশনা জারি করে আসাম সরকার। তাতে বলা হয়, যদি স্ত্রী বা স্বামী জীবিত থাকেন তাহলে রাজ্যের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অনুমোদন পাবে না, যদিও তা কোনো কোনো ধর্মে অনুমোদিত।
গত বছর দু’দফায় বাল্যবিবাহ বন্ধের বিরুদ্ধে তীব্র দমন-পীড়নমূলক অভিযান চালায় রাজ্য সরকার। এতে দেখা যায়, অনেক বয়স্ক পুরুষ একাধিক বিয়ে করেছেন। স্ত্রীরা তাদের চেয়ে অনেক কম বয়সের। এসব মেয়ে সমাজের দরিদ্র শ্রেণির।