নির্বাচনি বন্ডের পিছনে কী রহস্য? প্রকাশ্যে এলে কি বোঝা যাবে? জেনেনিন বিশ্লেষণ

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় নির্বাচনি বন্ডকে অস্বচ্ছ ও অনৈতিক বলে সমালোচনা করেছিলেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে এটি বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠীগুলিকে সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা দিতে পারে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দূষিত করতে পারে।

তথ্য প্রকাশের পর উঠে আসা প্রশ্ন:

স্টেট ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু সংস্থা ইডির তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পর তড়িঘড়ি নির্বাচনি বন্ড কিনেছে এবং এরপর তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও, বন্ড কেনার পর বিপুল অঙ্কের কেন্দ্রীয় সরকারি কাজের বরাত পাওয়া সংস্থাগুলির তথ্যও সামনে এসেছে।

বিরোধীদের অভিযোগ:

বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে যে এই সংস্থাগুলি নির্বাচনি বন্ডের মাধ্যমে বিজেপির তহবিলে টাকা ঢেলে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত এড়াচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেছে যে ভয় দেখিয়ে টাকা তোলার কাজে ইডি, আয়কর দপ্তরের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজেপির বক্তব্য:

বিজেপি এই অভিযোগগুলিকে অস্বীকার করেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছেন যে বিজেপির তহবিলেই যে এইসব টাকা এসেছে এরকম ভাবার পিছনে কোনও যুক্তি নেই।

প্রশ্নের জাল:

নির্বাচনি তহবিলে বাকিদের অনেক পিছনে ফেলে এগিয়ে আছে যে দলটি— তার তহবিল এভাবে ভরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কারা নিয়েছে?
ইডি, আয়কর দপ্তরের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি হানা দেওয়ার পরই এই সংস্থাগুলি নির্বাচনি বন্ডে টাকা ঢালতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল কেন?
নির্বাচনি বন্ডে টাকা ঢালার পর এই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে যাবতীয় তদন্ত হিমঘরে চলে গেল কেন?

সন্দেহের বীজ:

স্টেট ব্যাংক নির্বাচনি বন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে গড়িমসি দেখানোর ফলে সন্দেহ আরও বেড়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্ট স্টেট ব্যাংককে প্রতিটি নির্বাচনি বন্ডের আলাদা আলাদা নম্বর প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে।

শেষ কথা:

নির্বাচনি বন্ডের আড়ালে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ এখনও হাতে আসেনি। তবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে তথ্য প্রকাশের ফলে এই বিতর্ক আরও তীব্র হবে এবং এর ফলাফল কী হবে তা সময়ই বলে দেবে।