“ভারতের CAA বৈষম্যমূলক”-উদ্বেগ প্রকাশ করলো জাতিসংঘ এবং আমেরিকা

সোমবার কেন্দ্র সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) জারি করেছে। এই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু এই আইনে মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

এই আইন বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ (UN) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

UN-এর সমালোচনা:

UN-এর মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “CAA মৌলিকভাবে বৈষম্যমূলক এবং ভারতের আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন।”
আইনটি বাস্তবায়নকারী বিধিবিধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা তাও UN পর্যবেক্ষণ করছে।

মার্কিন প্রতিক্রিয়া:

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা সিএএ সংক্রান্ত জারি করা বিজ্ঞপ্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আইনটি কীভাবে কার্যকর করা হবে তা আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
“ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সকল সম্প্রদায়ের জন্য আইনের অধীনে সমান আচরণ মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি,” তিনি আরও বলেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির সমালোচনা:

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সিএএ-কে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে বর্ণনা করেছে।মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি বলছে যে এই আইন প্রতিবেশী দেশগুলির শিয়া মুসলিমদের মতন মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলিকে বাদ দিয়েছে।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে:

এই আইনটি মুসলিম বিরোধী নয়।কারোর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য এই আইন করা হয়নি।প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে নিপীড়নের সম্মুখীন সংখ্যালঘুদের সাহায্য করার জন্য প্রয়োজন ছিল।

বিক্ষোভ:

এই আইন জারির পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।কেন্দ্রের শাসক দলের নেতারা এই বিক্ষোভকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছেন।