পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, নজরে এবার বিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মীরাও

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা এবং পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকার ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ইতিমধ্যে চার-পাঁচটি জেলার বেশ কিছু স্কুলকে চিহ্নিত করেছে।

সংসদ ও সরকারের অভিযোগ, ওই শিক্ষাকর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা কর্তব্যে গাফিলতির কারণে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে সাহায্য করেছেন। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘মোবাইল নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষাকর্মী সাহায্য করেছেন। সংসদ তাঁদের চিহ্নিত করেছে। কয়েকজনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এই বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এদিনও দু’জন পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে হলে ঢোকায় তাদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে এ বার মোট ৪১ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছে মোবাইলের কারণে। সেই সব মোবাইল রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে তুলেও আনা হয়েছে। সেগুলোর ফরেন্সিক পরীক্ষা করাতে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একজন পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কাকে কাকে প্রশ্ন পাচার করেছে, এর পিছনে সংগঠিত কোনও গ্যাং আছে কি না, সে সব খতিয়ে দেখতে ডিজিটাল এভিডেন্স হিসেবে মোবাইল ফোনগুলোকে গণ্য করছে প্রশাসন।

সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ২৫ জন ছাত্রী এবং ১৬ জন ছাত্রের পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। চিরঞ্জীবের বক্তব্য, ‘পশ্চিম মেদিনীপুর, মালদা, দুই দিনাজপুর, জলপাইগুড়ির মতো জেলা থেকে খবর পেয়েছি যে, শিক্ষাকর্মীদের একাংশই হলে মোবাইল নিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের কিছুটা সহায়তা করেছেন।’ তিনি জানান, বৃহস্পতিবারও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে সংসদের ভ্রাম্যমাণ নজরদার দল এমন একটি স্কুলের তথ্য সংসদকে দিয়েছে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি স্কুল থেকে ‘নিঃশর্তা ক্ষমা’ও চাওয়া হয়েছে।