এবার এক ট্রেনেই হবে সোজা সিকিম যাত্রা, এনজেপি থেকে গাড়ি ধরার আর নেই চিন্তা

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে সিকিমের প্রথম রেল স্টেশনের শিলান্যাস সম্পন্ন হয়েছে। রংপোতে নির্মিত এই স্টেশনটি সিকিম ভ্রমণকে আরও সহজ করে তুলবে।

এবার থেকে আর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে গাড়ি ধরার ঝক্কি নেই। সোজা ট্রেনেই পৌঁছে যাওয়া যাবে রংপোতে।

এই স্টেশন নির্মাণ সম্পন্ন হলে:
রেলপথে সিকিমের মতো জনপ্রিয় পর্যটন স্থানে যাতায়াত সহজ হবে।পর্যটকদের আর সড়ক এবং বিমানপথের উপর নির্ভর করতে হবে না।ট্রেনেও সিকিম পাড়ি দিতে পারবেন ভ্রমণপিপাসুরা।সিকিমের বাসিন্দাদেরও ট্রেনপথে যাতায়াত করার সুযোগ মিলবে।

আলিপুরদুয়ারের ডেপুটি রেলওয়ে ম্যানেজার অমরজিৎ আগরওয়াল বলেন:
সিকিমের রংপো এলাকাটি পর্যটকদের কাছে তো বটেই সেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্পট।এর আগে সিকিমে কোনও রেলপথ ছিল না।তিনটি ধাপে রাজ্যের সরকার এই প্রজেক্টে মান্যতা দিয়েছে।

প্রথম ধাপে:

সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত রেল প্রজেক্ট।

দ্বিতীয় ধাপে:

রংপো থেকে গ্যাংটক পর্যন্ত রেলপথ।

শেষ ধাপে:

গ্যাংটক থেকে নাথু লা পর্যন্ত রেললাইন।

২০২৪ সালের মধ্যে এই রেলপথ নির্মাণের ডেডলাইন ধার্য হয়েছিল। তবে সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। বন্যা, হড়পা বান, ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে সিকিমের রেলপথ নির্মাণের কাজ কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়েছে।

সেবক-রংপো রেল প্রজেক্ট:
সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার পথে বিস্তৃত হবে এই রেললাইন।এর মধ্যে সাড়ে তিন কিলোমিটার সিকিমে এবং বাকি সাড়ে ৪১ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে পড়ছে।শিলিগুড়ি রেল স্টেশন থেকে এই রেললাইন ২৬ কিলোমিটার দূরে।সেবক রেল স্টেশনের পুনর্বিকাশের কাজও শুরু হয়েছে।

প্রজেক্ট ডিরেক্টর মহীন্দর সিং বলেন:
এই প্রজেক্টের আওতায় ১৪টি টানেল, ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ন’টি ছোট সেতুর নির্মাণও হবে।৬০-৬৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।মার্চ থেকে কাজের গতি আরও বাড়বে।৮৬ শতাংশ পথে রয়েছে টানেল।