হুথিদের হামলায় ভারতের ডিজেল ব্যবসায় ধস, বাড়াচ্ছে উদ্বেগ

লোহিত সাগরে হুথিদের হামলায় ইউরোপে ভারতের ডিজেল ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে। জানা গেছে, ইউরোপে ২০২২ সালের পর এই প্রথম ভারত থেকে সবচেয়ে কম ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় জ্বালানির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই এশিয়া ও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল ইউরোপ। লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণে ইউরোপের আমদানি নির্ভর জ্বালানি খাতের সংকট তীব্র হয়েছে। হামলা এড়াতে আফ্রিকা ঘুরে ইউরোপে যাচ্ছে এশিয়ার জাহাজগুলো। ফলে বেড়েছে ব্যয়।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই জ্বালানি সংকটে ইউরোপ। এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে লোহিত সাগরে বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণে। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে এ হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত হুথিরা। আর এতে ভারতও ডিজেল ব্যবসায় সংকটে পড়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে ভারত থেকে দৈনিক গড়ে ১৮ হাজার ব্যারেল জ্বালানি সরবরাহ হয়েছে ইউরোপে। গত মাসের চেয়ে এই পরিমাণ ৯০ শতাংশ কম। এমনটা বলছে ভর্টেক্সা লিমিটেডও।

স্পার্টা কমোডিটিজের বিশ্লেষক জেমস নোয়েল–বেসভিক বলেন, হুথিদের হামলা ছাড়াও সরবরাহ কমার আরো একটি কারণ খরচ বেড়ে যাওয়া। এ মাসে সহজ রুটে আর যেতে পারছে না জাহাজ, যেতে হচ্ছে ঘুরে। এতে খরচই তোলা সম্ভব হচ্ছে না, এ কারণে সরবরাহ কম।

পরিসংখ্যান জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে ইইউতে কোনো জ্বালানি সরবরাহ হয়নি। যুক্তরাজ্যে গেছে মাত্র একটি চালান। তবে এশিয়ার দেশগুলোতে ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রয়েছে।

বালানি বিশ্লেষক নাটালিয়া লোসাদা বলেন, লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটলে পূর্ব সুয়েজ রুটের ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হবে ইউরোপ। সামনের মাসগুলোতে ইউরোপে ডিজেল ব্যবহার কঠিন হবে।