মুখ্যমন্ত্রীকে ভালোবেসে ১ টাকায় কচুরি, খেতে চাইলে চলে যান এই ঠিকানায়

লুচি-কচুরি বাঙালির প্রিয় খাবার। সে ছোলার ডাল, কুমড়োর ছক্কা, আলুর দম বা মাংসের সাথেই জমে যায়। বাজারে অনেক দোকানেই সকালে বা সন্ধ্যায় জয় খাবার হিসেবে লুচি তরকারি বিক্রি হয়। কোথাও প্রতি পিস ৩ টাকা, কোথাও ১০ টাকায় ৪টে, কোথায় আবার ৫টা প্রতি পিসও বিক্রি হয় কচুকি। কিন্তু এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে ভিন্ন চিত্র নদিয়ার শান্তিপুরের নতুনহাট বাজারে।

২৪ বছর ধরে তেলে ভাজা কচুরি আজও খাদ্য রসিকদের জিভে জল এনে দেয়। তাও মাত্র এক টাকায়! ভাবতে অবাক লাগলেও এই দোকান চলছে নদিয়ার শান্তিপুরের নতুনহাট বাজারে।

ব্যবসায়ী জনি রক্ষিত জানাচ্ছেন, সম্পূর্ণই বিক্রির উপর লাভ থাকে তাঁর। তবে সারাদিন দোকান চালিয়ে খুব অল্প লভ্যাংশ থাকে। এই এক টাকার কচুরি তাঁর বাবা দীপক রক্ষিতের হাতেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর সেটাকেই বহাল রাখার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন তিনি।

জনি বলেন, “যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন ১ টাকাতেই খাইয়ে যাব, এটা আমার প্রতিজ্ঞা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার ভালো লাগে, সেই হিসেবে সাধারণ মানুষকে আমি ১ টাকা করে কচুরি খাইয়ে যাব।”

এক টাকার লুচির সাথে বিনামূল্যে থাকে মটরের ঘুগনি, স্যালাড, কাসুন্দি ও টমেটো সস। শুধু শান্তিপুরই নয়, পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে রয়েছে এই দোকানের নাম। তাই পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও সারাবছরই ১ টাকার লুচির খোঁজে দোকানে ভিড় করেন ক্রেতারা।

এই দোকান শুধু খাবারই সরবরাহ করে না, বরং এটি সামাজিক মেলবন্ধনের কেন্দ্রও বটে। দোকানে ক্রেতারা শুধু কিনতে বা খেতেই আসেন না, চলে আড্ডাও। আর সেই আড্ডার মাঝেই কখন যে লুচি মুখে উঠে যায় আর, কখনই বা শেষ হয়ে যায় তা কার্যত বোঝাই যায় না।

নদিয়ার এই এক টাকার কচুরি শুধু খাদ্য রসিকদের স্বর্গই নয়, বরং মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্তও বটে।