বিশেষ: কথা বলেন মাত্র ৭ জন! বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় এই মাতৃভাষার কাহিনি জেনেনিন

ভাষা, অনুভূতির বাহন। মায়ের কোলে জন্ম নেওয়া শিশুর মুখে যখন প্রথম বুলি ফোটে, সেই ভাষাই তার মাতৃভাষা। পৃথিবীতে অজস্র ভাষার অস্তিত্ব, প্রতিটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এমন এক ভাষাও আছে যা বলে মাত্র সাতজন!
বিশ্বের অন্যতম বিলুপ্তপ্রায় ভাষা রেংমিটচ্য। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও মায়ানমারের ম্রো জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা এই রেংমিটচ্য। কিন্তু অবহেলার কারণে এটির অস্তিত্ব আজ ঝুঁকিপূর্ণ।
ক্রমশ বিলুপ্তির দিকে
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আলীকদমে রেংমিটচ্যভাষী পরিবার ছিল শতাধিক। কিন্তু আজ সেই সংখ্যা মাত্র সাত। এই ভাষা শেখা শুরু হয়েছে নতুন করে, ম্রো অক্ষরের সাহায্যে শিশুদের অমর একুশের গান শেখানো হচ্ছে।
সাতজনের সংগ্রাম
সত্তরোর্ধ্ব কুনরাও ম্রো, মাংপুং ম্রো, রেংপুং ম্রো – এই সাতজনই আজ রেংমিটচ্য ভাষার ধারক ও বাহক। তাদের প্রচেষ্টায় এই ভাষা টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
নতুন আশার আলো
ক্রাংসিপাড়ায় স্থাপিত ম্রো স্কুলে শিশুদের রেংমিটচ্য ভাষায় পাঠদান করা হচ্ছে। রেংমিটচ্য অভিধান তৈরি করা হয়েছে। ইয়াংঙান ম্রো নামে একজন গবেষক ভার্চুয়াল ক্লাসের মাধ্যমে এই ভাষা শেখানোর চেষ্টা করছেন।
বিশ্বের দায়িত্ব
বিশ্বে ছয় হাজারেরও বেশি ভাষার অস্তিত্ব, তার মধ্যে ৪৩ ভাগ বিলুপ্তির পথে। রেংমিটচ্য তাদেরই একটি। ২০৩২ সালকে ভাষা সংরক্ষণের দশক ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রসংঘ। এই উদ্যোগ কি রেংমিটচ্যকে বাঁচাতে পারবে?