কংগ্রেস ছেড়ে ঘাসফুলে যোগ! হাতছাড়া পঞ্চায়েত, অধীর গড়ে ভাঙন এবার হাত শিবিরে

মুর্শিদাবাদের বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র লোকসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইন্ডিয়া জোটের সমীকরণ মেনে আসন সমঝোতা না হওয়ায় এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস।

সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি পঞ্চায়েত হাতছাড়া হল কংগ্রেসের। কংগ্রেস এবং সিপিএম থেকে একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন।

ভরতপুর-১ ব্লকের ভরতপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা মণ্ডল, কংগ্রেসের দুই পঞ্চায়েত সদস্য ও সিপিআইএমের ২ জন পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলে যোগদান করেছেন। ভরতপুর ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ন কবীরের হাত ধরে এঁরা তৃণমূলে যোগদান করেন।

তৃণমূলের যোগদানকারীদের মধ্যে থেকে একজন বলেন, “কংগ্রেসে থেকে কোনও উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে না। তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক কাজ করছে। সেই কারণে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলাম।” তৃণমূলে যোগদানের পর তাঁদের সদস্যের সংখ্যা হল ১৭। ৩-৪ জন সদস্য কম থাকায় পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করতে না পারলেও এবার তাঁরা বোর্ড গঠন করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

তৃণমূল এবং কংগ্রেস উভয়েই ইন্ডিয়া জোটের শরিক হলেও বর্তমানে নানা ইস্যু নিয়ে রাজ্যে দুই দলের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। এর মধ্যে বহরমপুর কেন্দ্র জুড়ে সংগঠন শক্ত করতে তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগদান তার অন্যতম অঙ্গ হিসেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জানান, বহরমপুরকে অনেকে অধীর গড় বলে থাকেন। কিন্তু, যবে লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হবে, তবে থেকে উনি আর এখনকার সাংসদ থাকবেন না। একমাত্র বহরমপুর বিধানসভা তাঁকে ৯০ হাজার লিড দেয়। সেই কারণে লোকসভা নির্বাচনে জিততে অনেকটা সুবিধা হয় তাঁর। তবে আগামী দিনে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে এই কেন্দ্র থেকে হারানোর জন্য তৃণমূল কংগ্রেস সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।