মোবাইলে চার্জ, জীবনে একবারই, হতে চলেছে ব্যাটারি বিপ্লব

মোবাইল কেনার সময় আমরা অনেক বিষয় বিবেচনা করি: ব্র্যান্ড, স্ক্রিন সাইজ, রেজোলিউশন, ক্যামেরা, ইত্যাদি। কিন্তু কতজন ব্যাটারির ক্ষমতা ও গুণমানের দিকে নজর দিই?
অফিসের জরুরি মিটিং চলছে, আপনি মাইক্রোসফট টিমসে অনলাইনে যুক্ত। হঠাৎ দেখেন, ফোনের ব্যাটারি লাল হয়ে ব্লিঙ্ক করছে! এই অবস্থায় অনেকেই পড়েছেন।
অনেকের ধারণা, বাকি স্পেসিফিকেশন ভালো হলে ব্যাটারিও ভালো হবে। কিন্তু ব্যাটারির দাম কমাতে কোম্পানিগুলো মাঝে মাঝে আপস করে।
কিছু ক্রেতা ব্যাটারির ক্ষমতা (mAh) দেখে ফোন কেনেন। ৫,০০০ mAh ব্যাটারির চেয়ে ৬,৫০০ mAh ব্যাটারি বেশি সময় চার্জ ধরে। কিন্তু বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি চার্জ করতেও বেশি সময় লাগে।
অনেকে মনে করেন, ৬৪ ওয়াট ফাস্ট চার্জার দিয়ে ১৫ মিনিটেই ফোন ফুল চার্জ করা যাবে। কিন্তু ফাস্ট চার্জিং ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়।
মোবাইলে থাকা লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে দুটি স্তর থাকে: লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড এবং গ্রাফাইট। চার্জিং করার সময় ইলেক্ট্রোলাইট সলিউশনের মাধ্যমে এই দুই স্তরের মধ্যে আয়ন বিনিময় হয়। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতিবার চার্জ করার পর ব্যাটারির আয়ু কিছুটা কমে যায়। ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করলে এই ক্ষয় আরও দ্রুত হয়।
চীনা স্টার্টআপ বিটাভোল্ট এই সমস্যার সমাধান করেছে। তারা কয়েনের চেয়েও ছোট একটি নিউক্লিয়ার ব্যাটারি তৈরি করেছে। বিটাভোল্ট বিভি১০০ নামের এই ব্যাটারিতে নিকেল ৬৩ আইসোটোপ এবং সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমবার চার্জ করার পর এই ব্যাটারি ৫০ বছর ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।
এটি অ্যাটমিক এনার্জির বিশ্বের প্রথম সফল মিনিয়েচারাইজেশন। বর্তমানে এটি বিটা টেস্টিং স্তরে রয়েছে। পরীক্ষা সফল হলে মোবাইল এবং ড্রোনের ব্যাটারিতে নতুন যুগের সূচনা হবে।
বিটাভোল্টের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই ব্যাটারি থেকে পরিবেশ দূষণ বা শারীরিক ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।