রাজপুতদের জমি কেড়ে গড়া হয় তাজমহল? মালিকানা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

আগ্রার তাজমহল, সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক। ১৭ শতাব্দীতে নির্মিত এই অসাধারণ স্থাপত্যটি ১৯৮৩ সালে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষিত হয়। পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম এই স্থাপত্যটির সৌন্দর্য্য আকর্ষণ করে বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের। কিন্তু, এই তাজমহল যে জমির উপরে দাঁড়িয়ে আছে, তার মালিক আসলে কে?
আমের জাতির দাবি: কেউ কেউ মনে করেন, এই জমিটি আমের জাতির, যা শাহজাহান কিনেছিলেন।
জয়পুর রাজ পরিবারের দাবি: অন্যরা মনে করেন, এটি জয়পুরের রাজ পরিবারের সম্পত্তি ছিল, যা মুঘল সম্রাট জোর করে দখল করে নিয়েছিলেন।
ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ (ASI) অনুসারে, তাজমহলের জমি রাজস্থানের আমেরের কাচ্চাওয়াহা রাজপুতদের।শাহজাহান তাজমহল নির্মাণের জন্য এই জমি রাজপুতদের কাছ থেকে নেন এবং বিনিময়ে তাদের চারটি হাভেলি দেন।তবে, এই হাভেলিগুলির কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
২০১৭ সালে, BJP সাংসদ সুবহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেন যে শাহজাহান জয়পুরের রাজপুতদের কাছ থেকে জোর করে জমি দখল করে তাজমহল তৈরি করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, শাহজাহান রাজপুত রাজাদের কম দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করেছিলেন এবং বিনিময়ে তাদের কম মূল্যের গ্রাম দিয়েছিলেন। এমনকি, তিনি দাবি করেন যে তাজমহলের জমিতে একটি মন্দির ছিল।
জয়পুরের রাজপুত পরিবারের সদস্য এবং রাজস্থানের উপ মুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারী দাবি করেন, তাজমহল তাদের পরিবারের জমিতে নির্মিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, মুঘল সম্রাট তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জোর করে এই জমি দখল করে নিয়েছিলেন।
তাজমহলের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চললেও, এখনও পর্যন্ত কোনও সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিতর্ক সত্ত্বেও, তাজমহলের সৌন্দর্য্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এবং সমাদৃত।
তাজমহলের জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকলেও, এর অসাধারণ স্থাপত্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশ্বের কাছে অমূল্য।