পাকিস্তানে যেভাবে আবারো ক্ষমতায় আসতে পারেন ইমরান খান

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সব আভাস ভুল প্রমাণ করে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে এগিয়ে আছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীরা।
তবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজ শরিফ বিজয় ভাষণ দিয়ে দিয়েছেন। ওই ভাষণে তিনি জোট সরকার গঠনের ইঙ্গিত দেন। তবে পিটিআই–সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কী করবেন বা তাদের অবস্থান কোথায়, তা এখনো জানা যায়নি।
তবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে শেষ বলতে কোনো কথা নেই। যে কোনো সময় নাটকীয় কিছু ঘটে বদলে দিতে পারে পুরো রাজনৈতিক সমীকরণ।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার রাতে পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মহসিন নকভির বাসভবনে পিপিপি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন শাহবাজ। দলীয় সূত্র জানায়, বিলাওয়ালের বাবা আসিফের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পিএমএল-এন সুপ্রিমো নওয়াজ শরিফের বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন শাহবাজ। পিপিপির এই দুই নেতাকে পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য পিএমএল-এনের নেতাদের সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাঞ্জাবে ও কেন্দ্রে সরকার গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন শাহবাজ ও আসিফ। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরবে দুই দল। ওই বৈঠকেই ক্ষমতা ভাগাভাগি, কে কোন মন্ত্রণালয়ে বসবে, এসব বিষয় চূড়ান্ত হবে।
তবে বিপত্তি বাধতে পারে জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেটা নিয়ে। কেননা নওয়াজ ও বিলাওয়াল দুজনই এবার প্রধানমন্ত্রী পদপ্রত্যাশী। পিপিপির শীর্ষ মুখপাত্র খুরশিদ শাহ জিও নিউজকে বলেছেন, নওয়াজ শরিফ নয় তারা পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দলের চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে দেখতে চান।
এ নিয়ে যদি দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয় তাহলে ইমরান খানের জন্য নতুন দুয়ার খুলে যেতে পারে। চাইলেই পিপিপি বা পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট গঠন করে সরকারে আসতে পারবেন পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে পিপিপি বা পিএমএল-এনের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠনের বিষয়ে আগেই ‘না’ বলে রেখেছে পিটিআই। অবশ্য রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো কিছু নেই। যদি সব বিষয়ে বনিবনা হয়েই যায় তাহলে যোগ্য নেতা হিসেবে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানের হাল ধরতে পারেন ইমরান খান।