দ্রুত তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন, ভারত সফরে দাবি হাসান মাহমুদের

প্রায় এক যুগ আগে ভেঙে পড়েছিল তিস্তা চুক্তি। ২০১১ সালে মনমোহন সিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে সেই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। এবার, ভারত সফরে এসে একই অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও তিস্তা চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করেন হাছান মাহমুদ। তাঁর আশা, তিস্তা সহ অভিন্ন জলবন্টন চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তিস্তা নিয়ে যে সংকট আছে তারও সমাধান হবে।

বুধবার, তিনদিনের ভারত সফরে এসেছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী। ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সঙ্গে তিস্তা চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ করেন তিনি। ওই বৈঠকের পরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা তিস্তাচুক্তি এবং অভিন্ন জলবন্টন নিয়েও আলোচনা করেছি। তিস্তা সহ অভিন্ন নদীর জলবণ্টন চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনও আপত্তি নেই।’

সামনেই ভারতের লোকসভা নির্বাচন। এই নির্বাচন পর্ব মিটে যাওয়ার পরেই এই বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘এপ্রিল-মে মাসে ভারতে নির্বাচন। তারপরেই আমরা আলোচনা করব। আমি আশাবাদী, এই নিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানো যাবে।’

২০০৯ সালে, তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয় মনমোহন সিংয়ের ক্যাবিনেটে। কিন্তু সেই সময়ে চুক্তি নিয়ে আপত্তি জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সেই সময় দাবি করেছিলেন যে তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তিস্তা চুক্তির বয়ান প্রস্তুত করা হয়েছে। মূলত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তিতেই সেই চুক্তি হয়নি।

কূটনৈতিক শিবিরের মতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকেও বার্তা দিয়ে রাখলেন হাছান মাহমুদ।