বাহিনী প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১০ মে, ডেডলাইন বেধেদিলো মালদ্বীপের ‘চিনপন্থী’ প্রেসিডেন্ট

কিছুদিন আগে ভারত-মালদ্বীপ কমিটির বৈঠকের পর ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল যে মালদ্বীপে মানবিক সাহায্যের জন্য ভারতীয় সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে সর্বসম্মত সমাধানে পৌঁছেছে। কিন্তু মালদ্বীপের চিনপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু সোমবার পার্লামেন্টে ভাষণে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি ভারত-বিরোধী অবস্থানে অনড়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন:
১০ মে-র মধ্যে মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনা সরানো নিয়ে নয়াদিল্লি এবং মালে সহমত হয়েছে।মালদ্বীপের তিনটি অ্যাভিয়েশন প্ল্যাটফর্ম থেকে ১০ মার্চের মধ্যে এবং বাকি দু’টি প্ল্যাটফর্ম থেকে ১০ মে-র মধ্যে সেনা সরবে।
সেনা রাখার ব্যাপারে চুক্তি পুনর্নবীকরণ করবে না মালদ্বীপ।কোনও দেশকে মালদ্বীপের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি দেবে না।এই ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য মুইজ্জু দেশের মধ্যেই বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এদিন তার ভাষণ বয়কট করেছেন ৫৬ জন বিরোধী এমপি।
মালদ্বীপে এতদিন ৮৭ জন সেনা মোতায়েন ছিল মানবিক সাহায্য এবং যে কোনও বিপদ বা বিপর্যয়ে মেডিক্যাল সাহায্যের জন্য। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু ক্ষমতায় আসার পর থেকে মালদ্বীপে ভারতের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী ইস্তেহারে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ক্ষমতায় এলেই মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনা সরাবেন।
মুইজ্জু ক্ষমতায় আসার পরই ভারতের বদলে চিন সফরে গিয়েছিলেন এবং মালেতে চিনা গুপ্তচর জাহাজ নোঙর করে রাখার অনুমতিও দিয়েছেন। এই চিনপন্থী এবং ভারত-বিরোধী অবস্থান নিয়ে বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা করেছেন।
বিরোধী দল এমডিপি এবং দ্য ডেমোক্র্যাটস যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “ভারতের মতো দীর্ঘদিনের বন্ধু ও উন্নয়নের পার্টনারকে এ ভাবে দূরে সরিয়ে দেওয়া মালদ্বীপের দীর্ঘকালীন উন্নতির পক্ষে ক্ষতিকর হবে। ভারতীয় মহাসাগরে স্থিতাবস্থা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা মালদ্বীপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটা মনে রাখা প্রয়োজন।”
তবে মুইজ্জু তার অবস্থান পরিবর্তন করছেন না, তা এদিনের ভাষণেই স্পষ্ট।