৩ বছরের ছেলেকে দত্তক নিয়ে ‘অস্বস্তি’! স্বেচ্ছায় আশ্রমে ফেরত দিলেন মা-বাবা

মুম্বইয়ের একটি দম্পতি গত বছর একটি হোম থেকে একটি ছেলেকে দত্তক নিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ মাসের মধ্যেই তারা বাচ্চাটিকে ফের হোমে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ, তাদের মতে, তিন বছরের ছেলেটির ‘অত্যধিক খারাপ ব্যবহার ও স্বভাবে’ তারা জেরবার। হাইকোর্ট সম্প্রতি দত্তক বাতিল ঘোষণা করেছে।

দম্পতির একটি সাত বছরের মেয়ে রয়েছে। তারা একটি ‘ভাই’ চেয়েছিলেন।গত বছরের ১৭ অগস্ট মুম্বইয়ের একটি হোম থেকে ১.৫ বছরের ছেলেকে দত্তক নেন।
আইন মেনে এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে দত্তক নেওয়া হয়েছিল।পাঁচ মাস পর, 28 ডিসেম্বর, দম্পতি বাচ্চাটিকে ফের হোমে ফিরিয়ে দেন।কারণ: ‘অত্যধিক খারাপ ব্যবহার ও স্বভাব’।হোম কর্তৃপক্ষ দম্পতির কাউন্সেলিং-এর পরামর্শ দেন।দম্পতি কাউন্সেলিং-এ আগ্রহী ছিলেন না।হোম হাইকোর্টে আবেদন করে দত্তক বাতিলের জন্য।25 জানুয়ারি হাইকোর্ট দত্তক বাতিল ঘোষণা করে।

কারণ:
হাইকোর্টের মতে, শিশুর ‘সর্বোত্তম স্বার্থ’ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।দম্পতির সাথে শিশুর ‘ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট’ তৈরি হয়নি।শিশুর তার পালক মা-বাবা ও বোনের প্রতি ‘প্রবল টান’ আছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতামত:
দম্পতির ‘জৈবিক সন্তান’ থাকায় দত্তক নেওয়া উচিত ছিল না।জন্ম থেকে অনাথ শিশুর আচরণ ‘জৈবিক সন্তানের’ মতো হবে না।
দম্পতি ‘অস্বাভাবিক’ আচরণকে ‘বেয়াড়া’ ও ‘অবাধ্য’ ভেবেছেন।

শিশুর বর্তমান অবস্থা:
শিশুটি ‘কারা’-য় (সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটি) দত্তকযোগ্যর তালিকায় রাখা হয়েছে।শিশুটি ‘একলা’ হয়ে গেছে।

নীতিশিক্ষা:
দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত ‘সাবধানে’ নেওয়া উচিত।’জৈবিক’ ও ‘অনাথ’ সন্তানের মধ্যে ‘তফাৎ’ করা উচিত নয়।
‘শিশুর স্বার্থ’ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।