মাওবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ, শহিদ ৩ জওয়ান, আহত ১৪

নতুন বছরের শুরুতেই ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের হামলায় নিহত হলেন ৩ জওয়ান। আহত হলেন আরও ১৪ জন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ঘটনাটি ঘটেছে বিজাপুর-সুকনা সীমানা এলাকার তেকুলাগুদাম গ্রামে।
মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে তেকুলাগুদাম গ্রামে মাওবাদীদের খোঁজে অভিযান চালিয়েছিলেন জওয়ানরা। এই সময় হঠাৎ জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে মাওবাদীরা। পালটা জবাব দেয় বাহিনী। গুলি এবং পালটা গুলির লড়াইয়ে তুমুল সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই সময় মাওবাদীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই ৩ জওয়ানের শহিদের ঘটনা ঘটে। জখম ১৪ জনকে সুকমা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে রায়পুরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সুকমার পাশাপাশি তেকুলাগুদাম গ্রামে মাওবাদীরের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপর নজর রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি শিবির স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে টহল দেওয়ার সময় হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে এই তেকুলাগুদাম জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে তুমুল লড়াই হয়েছিল মাওবাদীদের। সেই সংঘর্ষে ২২ জন জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। এবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে এই সুকনা-বিজাপুর এলাকায় প্রথম ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। এর কয়েকদিন যেতে না যেতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালাল মাওবাদীরা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিলেন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাওবাদীদের নির্মূল করার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। আগামী তিন বছরের মধ্যে মাও দমনে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছিলেন। তারপরেই মাও হামলা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তেকুলাগুদাম এলাকা ঘিরে মাও সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বলে খবর।
এই হামলার ঘটনায় নিহত জওয়ানদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল সহ অন্যান্য নেতারা।