বিশেষ: ছেলে এখন বড় ক্রিকেটার! আজও বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেন রিঙ্কুর বাবা

ভারতীয় ক্রিকেট দলের উদীয়মান ক্রিকেটার রিঙ্কু সিংয়ের বাবা খানচাঁদ সিং এখনও বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ করেন। ছেলে ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে গেলেও খানচাঁদ নিজের কাজ ছাড়েননি। তার এই অধ্যবসায় এবং পরিশ্রম ছেলেকে ক্রিকেটে সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছে।
রিঙ্কু সিং উত্তরপ্রদেশের আলিগড় জেলার বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বড় হয়েছেন তিনি। ক্রিকেট খেলার প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। কিন্তু অর্থের অভাবে ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাননি। তার বাবা খানচাঁদ একজন গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারী। রিঙ্কুর খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ দেখে তিনি ছেলেকে সাহায্য করতে শুরু করেন।
রিঙ্কু স্কুলের ক্রিকেট দলের সদস্য ছিলেন। তিনি তার দলের হয়ে ভালো খেলতেন। কিন্তু স্কুলের পর ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন খানচাঁদ ছেলেকে ক্রিকেট প্রশিক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দেন। রিঙ্কু কঠোর পরিশ্রম করে ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০১৮ সালে রিঙ্কু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে আইপিএল খেলার সুযোগ পান। কিন্তু তিনি খুব একটা ভালো খেলতে পারেননি। এরপর তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেন। ২০২৩ সালে আইপিএলে তিনি দুর্দান্ত খেলেন। ১৪ ম্যাচে তিনি ৪৭৪ রান করেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য তাকে ভারতীয় দলে ডাকা হয়।
রিঙ্কু সিং এখন ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪-এ ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেন।
রিঙ্কু সিংয়ের বাবা খানচাঁদ তার ছেলের সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে থাকা অনুপ্রেরণা। তিনি তার ছেলেকে কখনোই হতাশ হতে দেননি। তার অধ্যবসায় এবং পরিশ্রমের ফলেই রিঙ্কু আজ একজন সফল ক্রিকেটার।
Mad Mad Respect for Rinku Singh and his family 🙌🙏pic.twitter.com/KHfahEh4mY
— KKR Bhakt 🇮🇳 ™ (@KKRSince2011) January 26, 2024
রিঙ্কুর বাবা সম্পর্কে রিঙ্কুর মন্তব্য
রিঙ্কু বলেছেন, “আমি আমার বাবাকে বলেছি তুমি এখন বিশ্রাম নিতে পারো। কিন্তু তিনি এখনও সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন। তিনি তাঁর কাজ পছন্দ করেন। আমিও তার কাজ বুঝি। যদি তিনি বাড়িতে আরাম করতে শুরু করেন তবে তিনি অবিলম্বে বিরক্ত হয়ে যাবেন। একজন মানুষ যদি সারা জীবন কাজ করে থাকে, তবে সে না চাইলে তাঁকে কাজ করা থেকে বিরত রাখা কঠিন।”
রিঙ্কু সিং এবং তার বাবা খানচাঁদের গল্পটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব।