বিশেষ: মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘টাওয়ার ২২’ কী? কেন এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ?

মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া-জর্ডান সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘কট্টর ইরান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী’ এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, ‘আমরা এর জবাব দিব।’
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এই প্রথম কোনো হামলায় ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।
এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে আরো হামলাও হয়েছে তবে, এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি বিবৃতি অনুসারে, হামলায় কমপক্ষে ৩৪ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যে সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণের ঘটনাটি ঘটেছে সেটা ‘টাওয়ার ২২’ নামে পরিচিত। এটির অবস্থান জর্ডানের উত্তরপূর্বাঞ্চলের শেষ প্রান্তে ইরাক ও সিরিয়ার সীমান্তে।
স্থানটির কৌশলগত অবস্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জর্ডান বলছে, হামলাটি জর্ডানের ভেতরে নয়, সিরিয়ায় হয়েছে। জর্ডানের এক সরকারি মুখপাত্র দাবি করেছেন, হামলাটি ঘটেছে সিরিয়ার আল-তানফ ঘাঁটিতে।
‘টাওয়ার ২২’
খুব কমই পরিচিত এই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৩৫০ জন সৈন্য ও বিমান বাহিনীর সেনা রয়েছে।
ঘাঁটিটি নিয়মিতভাবে সামরিক রসদের যোগান দেয় তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ। টাওয়ার ২২ সিরিয়ার সীমান্তের ওপারে ‘আল তানফ’ গ্যারিসনের কাছে অবস্থিত। এখানে অল্প কিছু মার্কিন সেনাও রয়েছেন।
তানফ ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং পূর্ব সিরিয়ায় ইরানের সামরিক গঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মার্কিন কৌশলের অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখছে। যে কোনো প্রয়োজনে ‘টাওয়ার ২২’ থেকে সাহায্য দেওয়া যায় তানফে থাকা মার্কিন সেনাদের।
এ ছাড়া এলাকায় ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীগুলোর প্রতিরোধ এবং আইএসের ওপরও নজর রাখছে তনফ। তবে ‘টাওয়ার ২২’ কী কারণে হামলার শিকার হলো বা কী ধরনের অস্ত্র বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে আছে তা স্পষ্ট নয়।
২০১১ সালে সিরিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। কারণ তারা সিরিয়া ও ইরাক থেকে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বড় আকারে নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপনে সহায়তা করছে। ওয়াশিংটন বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলোকে যে সহায়তা দেয় তার একটি বড় অংশ পায় জর্ডানের সেনাবাহিনী। জর্ডানে কয়েকশ মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষক আছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বাইডেনকে এই হামলার বিষয়ে জানান।
এরপর বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জিল এবং আমি নিহতদের পরিবার, বন্ধু এবং সারা দেশজুড়ে আমেরিকানদের সঙ্গে আছি। এই ঘৃণ্য এবং অন্যায় হামলায় যোদ্ধাদের হারানোয় আমরা শোকহত।’
কর্মকর্তারা নিহত যোদ্ধাদের নাম তাদের পরিবারকে জানানোর কাজ করছে, তাই এখনও নিহত ও আহত সেনাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ ক্যারোলিনা সফরকালে বাইডেন বলেন, ‘গত রাত ( শনিবার) মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের একটি কঠিন দিন ছিল। আমরা তিনজন সাহসী যোদ্ধাকে হারিয়েছি।’ ১৭ অক্টোবর থেকে ইরাক এবং সিরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে কমপক্ষে ৯৭ বার হামলা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি