মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকটি কথোপকথনের রেকর্ড, বিস্ফোরক পাচার মামলায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২২ সালের জুন মাসে বীরভূমের মহম্মদবাজারে তল্লাশি চালিয়ে একটি গাড়ি থেকে ৮১ হাজার ডিটোনেটর উদ্ধার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। জিজ্ঞাসাবাদের পরে আরও ২৭ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ১ হাজার ৯২৫ কেজি জিলেটিন স্টিক এবং ২ হাজার ৩২৫টি ডিটোনেটর উদ্ধার হয়েছিল।

এনআইএ তদন্ত ভার নেওয়ার পর পেশায় এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। বানিওর গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়ী প্রার্থী মনোজ ঘোষকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ইসলাম চৌধুরীর নাম উঠে আসে।

ইসলামী চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করার পর এনআইএর হাতে বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন এসেছে। সেই ফোনগুলিতে বেশ কয়েকটি কথোপকথনের রেকর্ড পাওয়া গেছে। সেই অডিয়ো বার্তায় বিস্ফোরক পাচারের ‘সেফ রুট’ তৈরির কথা বলা হয়েছে।

সেই কণ্ঠস্বর যাচাইয়ের জন্য এনআইএ আদালতের নির্দেশে ইসলাম চৌধুরীর ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে। ভয়েস স্যাম্পল সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। উদ্ধার হওয়া মোবাইলের কল রেকর্ডের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে।

এনআইএ-র দাবি, তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, টাকার বিনিময়ে বিস্ফোরক আদান-প্রদানের ‘সেফ প্যাসেজ’ তৈরি করে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ইসলাম চৌধুরী।

এআইএ সূত্রে খবর, গোরু পাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগল হোসেনের সঙ্গে ইসলাম চৌধুরীর যোগসাজশ ছিল। সেহগলকে তিহাড় জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এআইএ।

বিস্ফোরক পাচারের ‘সেফ রুট’ খুঁজে দিতেই সেহগলের সঙ্গে চক্রের পান্ডাদের কথা হতো কি না, অথবা কারও নির্দেশে সেহগল ফোনে কাউকে বিশেষ বার্তা দিতেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখতে চান তদন্তকারী অফিসারেরা।

বীরভূমের এক প্রভাবশালীরও এই ঘটনায় ভূমিকা থাকতে পারে বলে তদন্তকারী অফিসাররা মনে করছেন।

বীরভূমের বিস্ফোরক পাচার মামলায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। ইসলাম চৌধুরীর ভয়েস স্যাম্পল সংগ্রহ করে তা সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। তদন্তের পর আরও অনেক তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।