‘বেকার স্বামীও খোরপোশ দিতে বাধ্য’,-নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট

এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চের একটি রায়ের প্রেক্ষিতে, বিবাহবিচ্ছেদের পর স্ত্রীর খোরপোশের জন্য বেকার স্বামীও বাধ্য। বিচারপতি রেণু আগরওয়ালের বেঞ্চের রায় অনুযায়ী, দিনমজুরের কাজ করেও দিনে ৩৫০-৪০০ টাকা রোজগার করা সম্ভব।
মামলাটি ২০১৫ সালে বিয়ে হওয়া এক দম্পতির। ২০১৬ সালে স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। ফ্যামিলি কোর্ট স্বামীকে নির্দেশ দেয়, ডিভোর্সি স্ত্রীর ভরণ-পোষণের জন্য মাসে ২ হাজার টাকা করে খোরপোশ দিতে হবে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্বামী এলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন।
স্বামীর যুক্তি ছিল, তাঁর স্ত্রী শিক্ষকতা করে মাসে ১০ হাজার টাকা রোজগার করেন, তাই তিনি নিজের খরচ চালাতে সক্ষম। অন্যদিকে, স্বামীর দাবি ছিল, তিনি নিজে গুরুতর অসুস্থ, চিকিৎসা চলছে। কোনওক্রমে দিনমজুরের কাজ করে, ভাড়াবাড়িতে থেকে জীবন কাটান। মা এবং বোনের খাওয়া-পরার খরচও তাঁর।
বিচারপতি আগরওয়ালের রায়ে বলা হয়েছে, স্ত্রী যে মাসে ১০ হাজার টাকা রোজগার করেন, তার কোনও প্রমাণ মামলাকারী দিতে পারেননি। নিজের অসুস্থতার প্রমাণও পেশ করতে পারেননি। আদালতের মতে, মামলাকারী সুস্থ-সবল একজন মানুষ এবং খেটে রোজগার করতে সমর্থ।
বিচারপতি আগরওয়াল বলেন, “তর্কের খাতিরে যদি কোর্ট মেনেও নেয়, মামলাকারীর কোনও চাকরি নেই, মারুতি ভ্যান ভাড়া দিয়েও তিনি কোনও ভাড়া পান না, তবুও স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে তিনি বাধ্য। ২০২২ সালের অঞ্জু গর্গ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় তেমনটাই বলে। আর মামলাকারী দিনমজুরের কাজ করলেও দিনে অনায়াসে ৩০০-৪০০ টাকা রোজগার করতেই পারেন।”
এই রায়ের ফলে, বিবাহবিচ্ছেদের পর স্ত্রীর খোরপোশের জন্য বেকার স্বামীর দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।