INDIA-জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রাজ্যে! কোন পথে ঘুঁটি সাজাচ্ছে তাহলে ISF? মুখ খুললেন নওশাদ

বাংলায় ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে জট অব্যাহত রয়েছে। তৃণমূলের একাংশ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে জোটের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে আইএসএফের অবস্থানও অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এক সময় আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেছিলেন, তৃণমূল জোটে থাকলে তাঁরা থাকবেন না। কিন্তু বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে রাজ্যে ইন্ডিয়া জোট মেনে চলা হবে কি না, বা আদতেও কংগ্রেস-তৃণমূলের গাঁটছড়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “আমাদের অবস্থান আগে যেটা ছিল, আজকেও সেটাই আছে। টালমাটাল পরিস্থিতি বলে আমি ঢুকে যাব, তেমনটা নয়। সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষে রাজনীতির ময়দানে এসেছি। তৃণমূল আছে বা না আছে, সেই বুঝে ঢুকে গেলাম, ওরকম ব্যাপার নয়।” তবে তৃণমূল শেষ পর্যন্ত না থাকলে, তখন বিষয়টি দলের অন্দরে আলোচনা করে দেখা হবে বলেই ইঙ্গিত দেন আইএসএফ বিধায়ক।
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়েও মুখ খোলেন নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি বলেন, “৪২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো সেই জায়গায় সংগঠন পৌঁছয়নি। প্রার্থী দিয়ে হাসির খোরাক হব, প্রার্থী দিলাম, জামানত বাজেয়াপ্ত হল, ওই সমস্ত জায়গায় আমরা প্রার্থী দেব না। যে সমস্ত জায়গায় আমরা লড়াই করতে পারব, কনটেস্ট করতে পারব, সেই সমস্ত জায়গায়ই আমরা প্রার্থী দেব।” তবে ঠিক কতগুলি আসনে তাঁরা প্রার্থী দেবেন সেই বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট করে কিছু বলেননি নওশাদ।
নিজের ভোটে লড়ার বিষয়ে বলতে গিয়ে নওশাদ ফের একবার বলেন, “আমার ইচ্ছা আছে, আমি ডায়মন্ডহারবার আসন থেকে লড়াই করব। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে কালীঘাটে পাঠাব এবং মানুষের দোয়া আশীর্বাদ ভোট নিয়ে আমি সংসদে যাব।”
বাংলায় ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। তৃণমূল-কংগ্রেসের গাঁটছড়া না হলে আইএসএফের জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আইএসএফের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।