বিহারের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়, নীতীশকে নিয়ে মুখ খুললেন তেজস্বী যাদব

বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ছেড়ে ফের একবার NDA-এর সঙ্গে নীতীশ কুমারের হাত মেলানোর জল্পনা তুঙ্গে। নীতীশ পদ্মফুলে যোগদান করলে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে বলেই মনে করছে একাংশ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ। নীতীশের NDA-তে যোগদানের জল্পনা ও জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন বিহারের উপমুখ্য়মন্ত্রী তেজস্বী যাদব। তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বরাবরই আমাদের কাছে সম্মানীয় ব্যক্তি ছিলেন, আছেন ও থাকবেন। অনেক কিছুই নীতীশ কুমারের হাতে নেই। ‘মহাজোটে’ আরজেডি-র মিত্ররা বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে সবসময়ই সম্মান করেন।’

একাংশ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, তেজস্বী যাদব কোনও ভাবেই আত্মসমর্পণ করতে রাজি নন নীতীশের কাছে। যে কোনও মূল্যেই তিনি বর্তমান সরকার টিঁকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। সেক্ষেত্রে শিবির বদল করলেও নীতীশ কুমার যাতে আরও কোনও ভাবেই মুখ্যমন্ত্রী হতে না পারেন তেজস্বী সেই চালিয়ে যাচ্ছেন।

তেজস্বীর কথায়, ‘এখনও মানুষ আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। যে কাজ দুই দশকে করা হয়নি, তা আমরা অল্প সময়ের মধ্য়েই করে ফেলেছি সে চাকরি হোক, জাতিভিত্তিক জন গণনা হোক, সংরক্ষণ বৃদ্ধি হোক। এখনও বিহারের রাজনীতির আঙিনায় খেলা বাকি রয়েছে।’

এদিকে, বিহারের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপি ও কংগ্রেসের পর এবার জরুরি ভিত্তিতে আরজেডি বৈঠক ডেকেছে দলীয় বিধায়কদের। তেজস্বী যাদবের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে সমস্ত সিদ্ধান্ত লালু প্রসাদ যাদব নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নীতীশ কুমারের শিবির বদলের গুঞ্জনের মধ্যে বিহারের রাজনীতিতে অঙ্ক কষতে ব্যস্ত দুই শিবিরই। আপাতদৃষ্টিতে অঙ্কের হিসেবে কুমারের ফের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে কোনও বাধা থাকার কথা নয়। তবে, নীতীশ কুমারের আচরণে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে আরজেডি শিবিরে।

বিহারের রাজনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে বিরোধীরা স্পষ্টতার দাবি করেছে। জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা কেসি ত্যাগী বলেছেন, “কংগ্রেসের দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অনড় মনোভাবের কারণে ইন্ডিয়া জোট ভাঙার পথে।”